সকালে ঘুম থেকে উঠে চা পান করতেই ভারতীয়রা বেশি পছন্দ করেন। তবে আজকাল তরুণ প্রজন্মের কাছে কফিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কফি সম্পর্কে এমন কথা শোনা যায় যে, খালি পেটে এটি পান করলে স্বাস্থ্যের নানা সমস্যা দেখা দেয়। কফি পানের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। দিনে ২-৩ কাপ কফি পান করাকে নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা হয়; তবে এর চেয়ে বেশি পরিমাণে পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন যদি পরিমিত পরিমাণে কফি পান করা হয়, তবে শরীর উপকৃতই হয়। মাত্র ১৪ দিন কফি পান করলেই শরীরে মানসিক ও শারীরিক—উভয় ধরনেরই অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।
কফি পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন দেখা যায়
শক্তি ও মনোযোগ বৃদ্ধি: কফি পান শুরু করার প্রথম দিকের দিনগুলোতে শরীরে ‘অ্যাড্রেনালিন’ হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, যার ফলে আপনি নিজেকে অনেক বেশি চনমনে ও উদ্যমী অনুভব করেন। মস্তিষ্কের যে রাসায়নিকটি (অ্যাডেনোসিন) আমাদের ক্লান্ত করে তোলে, ক্যাফেইন সেটির কার্যকারিতা আটকে দেয়; ফলে আপনার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
মেটাবলিজম ও হজমশক্তি: কফি আপনার মেটাবলিক বা বিপাকীয় হার ৩% থেকে ১১% পর্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ক্যালোরি পোড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া কফি পান করলে হজমতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং অনেকের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে।
মানসিক অবস্থা: নিয়মিত কফি পান করলে মস্তিষ্কে ‘মন ভালো করা’ হরমোন—যেমন ডোপামিন ও সেরোটোনিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। টানা ১৪ দিন কফি পান করার পর আপনি নিজেই অনুভব করবেন যে, আপনার সকালগুলো আরও বেশি সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে এবং মানসিক চাপ অনেকটাই কমে গেছে।
ক্যাফেইনের প্রতি সহনশীলতা: টানা ১০ থেকে ১৪ দিন কফি পান করার পর আপনার শরীর ক্যাফেইনের সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এর অর্থ হলো, প্রথম দিন এক কাপ কফি পান করে আপনি যে তীব্র সতেজতা বা ‘কিক’ অনুভব করেছিলেন, এখন হয়তো সেই অনুভূতি কিছুটা ম্লান মনে হতে পারে। এই পর্যায়ে এসে আপনার হয়তো আরও বেশি কফি পান করার ইচ্ছা জাগতে পারে—যা ‘ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা’ (Caffeine dependence) হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন : গ্রীষ্মকালে ত্বক কে সারাদিন সতেজ রাখতে রাতে এই ফেস মাস্কগুলো ব্যবহার করুন
অতিরিক্ত কফি পান ক্ষতিকর
অতিরিক্ত পরিমাণে কফি পান করলে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং ধমনীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে। আপনি যদি খালি পেটে কফি পান করেন, তবে আপনার অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। দিনে ২-৩ কাপ কফি পান করাকে নিরাপদ মনে করা হলেও, এর চেয়ে বেশি পরিমাণে পান করলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা উদ্বেগ ও অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া আপনি যদি সন্ধ্যার দিকে কফি পান করেন, তবে টানা ১৪ দিন পর আপনার ঘুমের স্বাভাবিক চক্র বা ‘স্লিপ সাইকেল’ ব্যাহত হতে পারে। ক্যাফেইন দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে থেকে যায়, যা গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।