এই গ্রীষ্মে আপনার ত্বককে কালচে ও প্রাণহীন হওয়া থেকে বাঁচান: শুধু এই ৫টি বিষয় মনে রাখুন

গ্রীষ্মকালে, আপনার ত্বক কেবল রোদে পুড়ে কালচে (tanning) হয়েই যায় না, বরং এটি নিস্তেজ ও প্রাণহীনও দেখাতে শুরু করে। আমরা এখানে আপনাকে জানাবো ত্বকের যত্নের (skincare) কোন নির্দেশিকাগুলো মেনে চললে আপনি এই তীব্র গরমের মধ্যেও আপনার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে পারবেন।

5 Min Read

গ্রীষ্মকালে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময়, আপনার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ত্বককে আর্দ্র রাখা বা ‘হাইড্রেশন’। এই আবহাওয়ায় সূর্যের আলো, তাপ এবং গরম বাতাসের সংস্পর্শে আসার ফলে ত্বক কেবল কালচে হয়েই যায় না, বরং এটি নিস্তেজও দেখায়। বাস্তবে, মানুষ প্রায়শই ত্বকের কালচে হয়ে যাওয়ার জন্য কেবল গরমকেই দায়ী করে, কিন্তু এর পেছনে থাকা অন্যান্য কারণগুলোর দিকে তারা খুব কমই নজর দেয়। যদি আপনার জীবনযাপন অস্বাস্থ্যকর হয়—বিশেষ করে যদি আপনি অতিরিক্ত পরিমাণে ভাজাভুজি বা মশলাদার খাবার খান—তবে তা-ও আপনার ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে হলে কেবল সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং সামগ্রিক আত্ম-যত্নের (self-care) রুটিনের দিকেও সমান মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য।

এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের অপরিহার্য বিষয়গুলো সম্পর্কে নির্দেশনা দেব। কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই আপনি গ্রীষ্মের তীব্রতম তাপের মধ্যেও উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় ত্বক লাভ করতে পারবেন। চলুন শুরু করা যাক…

ত্বকের ওপর গ্রীষ্মের তাপের প্রভাব

যদিও এখন এপ্রিল মাস চলছে, তবুও আশা করা যায় যে আগামী দিনগুলোতে গরমের তীব্রতা আরও অনেক বেশি বাড়বে এবং তা বেশ কষ্টদায়ক হয়ে উঠবে। এই ঋতুতে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা—যেমন রোদে পোড়া দাগ (tanning), ব্রণ বা ফুসকুড়ি ওঠা, ত্বকে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব এবং অন্যান্য জটিলতা—দেখা দেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গ্রীষ্মের তীব্র তাপের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম নির্গত হয়; আর অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই ঘামের কারণেই ত্বক শেষমেশ শুষ্ক ও জলশূন্য হয়ে পড়ে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপালি ভরদ্বাজের মতে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত পরিমাণে তৈলাক্ত বা মশলাদার খাবার খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যাভ্যাসের এই ত্রুটি আমাদের ত্বকে ব্রণ এবং ফুসকুড়ি হিসেবে প্রকাশ পায়। যদি এই সমস্যাগুলো উপেক্ষা করা হয় এবং সঠিক চিকিৎসা না করা হয়, তবে ত্বকে স্থায়ী দাগ বা ক্ষত থেকে যেতে পারে।

গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের নির্দেশিকা

১. সানস্ক্রিন অপরিহার্য: বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, গ্রীষ্মকালে রোদে পোড়া বা ‘ট্যানিং’ থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য আপনার দিনে অন্তত দুবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এটি ত্বকের যত্নের এমন একটি অপরিহার্য উপাদান যা একটি ঢাল বা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে এবং আপনার ত্বককে পিগমেন্টেশন (ত্বকের রঙের পরিবর্তন) ও সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। বর্তমানে বাজারে এমন সব সানস্ক্রিন পাওয়া যায়, যা ত্বককে রোদে পোড়া বা ‘ট্যান’ হওয়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি ত্বকের জন্য আরও নানাবিধ উপকারিতা প্রদান করে।

২. আর্দ্রতাকে অগ্রাধিকার দিন: যেহেতু গ্রীষ্মকালে অত্যধিক ঘাম হয়, তাই ত্বককে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্দ্র রাখা অত্যন্ত জরুরি। উষ্ণ মাসগুলোতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। ত্বকের যত্নে একটি সহজ ও সাধারণ রুটিন মেনে চলাই শ্রেয়; তাই ত্বকে খুব ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের ফলে ত্বক সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারে।

৩. অতিরিক্ত পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন: জমে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা দূর করার প্রচেষ্টায় অনেকেই তাদের মুখ বা ত্বক অতিরিক্ত পরিষ্কার করে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এই অভ্যাসটি আসলে ত্বককে আরও বেশি তেল নিঃসরণ করতে প্ররোচিত করে। তাই, ত্বক পরিষ্কার করার কাজটি দিনে মাত্র একবার বা দুবার করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন।

আরও পড়ুন : গ্রীষ্মকালে ত্বক কে সারাদিন সতেজ রাখতে রাতে এই ফেস মাস্কগুলো ব্যবহার করুন

৪. এক্সফোলিয়েশন অপরিহার্য: ত্বক থেকে জমে থাকা অশুচি বা ময়লা দূর করতে এক্সফোলিয়েশন—অর্থাৎ ত্বক ঘষে পরিষ্কার করা বা স্ক্রাবিং—করা প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে ত্বকে ধুলোবালি ও ময়লা অপেক্ষাকৃত দ্রুত জমে ওঠে; তাই ত্বকের গভীর থেকে পরিষ্কার নিশ্চিত করতে সপ্তাহে দুবার মুখ স্ক্রাব করুন।

৫. ভারী মেকআপ এড়িয়ে চলুন: এটি বহুল প্রচলিত একটি ধারণা যে, গ্রীষ্মকালে ভারী মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বক সঠিকভাবে শ্বাস নিতে পারে না। যদিও অনেক নারীই প্রতিদিন ভারী মেকআপ ব্যবহার করাকে অপরিহার্য মনে করেন, তবুও গ্রীষ্মের মাসগুলোতে ভারী মেকআপ, ধুলোবালি এবং ঘামের সংমিশ্রণ ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার (clogged pores) কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। হালকা মেকআপের বিকল্পগুলো বেছে নিলে তা কেবল স্বস্তিদায়কই হয় না, বরং ত্বকের সম্ভাব্য ক্ষতিও অনেকাংশে কমিয়ে আনে।

Share This Article