ভাত নাকি রুটি: সুস্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী? জানুন

ভাত বনাম রুটি—বাঙালিদের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে চলে আসা এই চিরন্তন বিতর্কটি অনেকের মনেই প্রায়শই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বিষয়ে জানুন—আপনার নির্দিষ্ট জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে, সুস্থ থাকতে এবং শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে ভাত নাকি রুটি—কোনটি আপনার জন্য সেরা পছন্দ।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

শরীরের জন্য কোনটি বেশি ভালো—ভাত নাকি রুটি—তা নিয়ে বিতর্ক যেন অন্তহীন। বাঙালি পরিবারগুলোতে দুপুরের খাবার মানেই সাধারণত এক থালা ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত; অন্যদিকে রাতের খাবারের জন্য অনেকেই রুটিকেই বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে খাদ্যের পুষ্টিগুণ এবং শরীরের প্রকৃত চাহিদাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

অনেকেই মনে করেন যে, ভাতের তুলনায় রুটিতে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম থাকে—তবে এই ধারণাটি সবসময় সঠিক নয়। যদিও উভয় খাবারেই শর্করা বিদ্যমান, তবুও শরীরে এদের প্রক্রিয়াজাত হওয়ার পদ্ধতি বা ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। ছাঁটাই না করা বা লাল চাল এবং মোটা দানার আটা দিয়ে তৈরি রুটি—ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি কিংবা অতিরিক্ত ছাঁটাই করা সাদা ভাতের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিশোধিত ও ধবধবে সাদা আটা বা ভাত একবার গ্রহণ করার পর শরীরে অনেকটা চিনির মতোই আচরণ করে। বিশেষজ্ঞরা তো অতিরিক্ত ছাঁটাই করা ভাত এবং মিহি করে গুঁড়ো করা প্যাকেটজাত আটাকে ‘সাদা বিষ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। কোনো খাদ্যপণ্য দেখতে যত বেশি সাদা হয়, তাতে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ততটাই কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণত, ভাতের তুলনায় রুটিতে আঁশ বা ফাইবারের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকে। আঁশের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে, রুটি খেলে দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা বা তৃপ্ত থাকার অনুভূতি বজায় থাকে। ফলে, যারা ওজন কমাতে চাইছেন কিংবা বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চলছেন, তাদের জন্য রুটি হতে পারে একটি চমৎকার বিকল্প।

আপনি যদি ভাতের ভক্ত হয়ে থাকেন, তবে ভাত খাওয়ার পদ্ধতিতে আপনাকে হয়তো সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। ভাতের সাথে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ডাল কিংবা দই মিশিয়ে খেলে ভাতের ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ বা শর্করা সূচক নিয়ন্ত্রণে থাকে। এভাবে ভাত গ্রহণ করলে, ভাত থেকে প্রাপ্ত শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে রক্তপ্রবাহে মিশে যায়, যার ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় থাকে।

যাদের কাজের ধরন এমন যে দিনের অনেকটা সময় তাদের বসে কাটাতে হয়, তাদের জন্য কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার হিসেবে রুটি বিশেষভাবে উপকারী। এর বিপরীতে, যারা কায়িক পরিশ্রম বা কঠোর শারীরিক শ্রমের কাজে নিয়োজিত, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে ভাতের ভূমিকা অপরিহার্য। পরিশেষে বলা যায়, আপনার পাতে ভাত রাখবেন নাকি রুটি—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ এবং জীবনযাত্রার ধরনটি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। শুনতে যতই বিস্ময়কর মনে হোক না কেন, গবেষণায় দেখা গেছে যে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষিত ভাত খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের (dietary fiber) একটি চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করে। ভাত যখন ঠান্ডা হয়, তখন এর স্টার্চ ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ রূপান্তরিত হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে, এই ভাত পুনরায় গরম করার সময় অবশ্যই যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও পড়ুন : শরীরের মেদ কমাতে চান? এই ১০টি প্রোটিন এড়িয়ে চলুন

কাশ্মীরের মানুষের জন্য ভাত যেমন আদর্শ প্রধান খাদ্য, পাঞ্জাবের মানুষের জন্য রুটি ঠিক তেমনই—যা স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকেই তুলে ধরে। আপনার শরীর যে খাবারটির সাথে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং যা হজম করা সবচেয়ে সহজ মনে করে, আপনার সেটাই গ্রহণ করা উচিত। ভাত ও রুটি-র মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে—এবং খাবারের উপযুক্ত পরিমাণ বা ‘পোর্শন সাইজ’ মেনে চলে—আপনি সারাজীবন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী থাকতে পারেন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article