৩৫ বছর বয়সের পর গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ মত এই ৩টি পরীক্ষা করুন

৩৫ বছর বয়সের পর, গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার সময় স্বাস্থ্যের প্রতি আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়ে। এই সময়ে কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উপকারী। আসুন, এ সম্পর্কে ডাঃ সালোনি চাড্ডার কাছ থেকে জেনে নিন।

3 Min Read

৩৫ বছর বয়সের পর, নারীদেহে অনেক ধরণের হরমোন এবং শারীরিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। এই বয়সে, ডিমের গুণমান কম থাকা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, থাইরয়েড, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গর্ভাবস্থায় সময় কাটানোর সাথে সাথে, গর্ভপাত এবং গর্ভাবস্থার জটিলতার ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেড়ে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে, শরীরের পুনরুদ্ধার ক্ষমতাও কিছুটা কমে যায়, যা মা এবং অনাগত শিশুর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ৩৫ বছর বয়সের পর গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার সময় শরীরের সম্পূর্ণ পরীক্ষা এবং প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

এমন ক্ষেত্রে, সঠিক সময়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, যাতে আগে থেকেই কোনও ঘাটতি বা ঝুঁকি সনাক্ত করা যায়। এটি গর্ভাবস্থায় সমস্যাগুলি অনেকাংশে কমাতে পারে। আসুন জেনে নিই ৩৫ বছর বয়সের পর গর্ভাবস্থার আগে কোন পরীক্ষাটি করা জরুরি।

এই ৩টি পরীক্ষা করুন

আরএমএল হাসপাতালের মহিলা রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালোনি চাড্ডা বলেন, ৩৫ বছরের পর গর্ভাবস্থার পরিকল্পনা করার আগে কিছু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উপকারী। প্রথমত, রক্তে শর্করার পরীক্ষা, যা ডায়াবেটিসের অবস্থা সনাক্ত করে, কারণ গর্ভাবস্থায় শর্করার মাত্রার ভারসাম্যহীনতা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকারক হতে পারে। দ্বিতীয়ত, থাইরয়েড পরীক্ষা, কারণ থাইরয়েড হরমোন গর্ভাবস্থা এবং শিশু বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তৃতীয়ত, হিমোগ্লোবিন বা সম্পূর্ণ রক্ত গণনা পরীক্ষা, যা শরীরে রক্তাল্পতা এবং সংক্রমণ সম্পর্কে তথ্য দেয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তার বুঝতে পারেন যে শরীর গর্ভাবস্থার জন্য কতটা প্রস্তুত এবং যেকোনো সম্ভাব্য সমস্যার সময়মতো চিকিৎসা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন : বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর কি প্রভাব পড়ে? জানুন

গর্ভাবস্থার আগে জীবনযাত্রায় কি পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?

৩৫ বছরের পর গর্ভাবস্থার জন্য জীবনধারা উন্নত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ফলিক অ্যাসিড সহ সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খান। শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।

পূর্ণ ঘুমান এবং চাপ এড়াতে চেষ্টা করুন। ধূমপান এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন। ওজন ভারসাম্যপূর্ণ রাখুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো ওষুধ খান।

এছাড়াও জেনে রাখুন

  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
  • সময়মতো ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
  • ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট শুরু করুন।
  • যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতাকে উপেক্ষা করবেন না।
  • ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বজায় রাখুন।
Share This Article