আজকাল অনেক মহিলাদের মধ্যে Vitamin D-এর অভাব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হল জীবনযাত্রার পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতরে থাকা, সূর্যের আলোর সীমিত সংস্পর্শ এবং সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের Vitamin D উৎপাদনকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও, পুষ্টির ঘাটতি, দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্যের কম গ্রহণ, স্থূলতা এবং হরমোনের পরিবর্তনও এতে অবদান রাখতে পারে। শহরাঞ্চলে উচ্চ মাত্রার দূষণ সূর্যের আলো থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টির পরিমাণও হ্রাস করে। অনেক মহিলা তাদের ব্যস্ত সময়সূচীর কারণে তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা করেন, যার ফলে ক্রমবর্ধমান ঘাটতি দেখা দেয়।
এছাড়াও, মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব শরীরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলিকেও প্রভাবিত করে। বার্ধক্য শরীরের Vitamin D শোষণের ক্ষমতাও হ্রাস করতে পারে। নির্দিষ্ট ওষুধের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারও ভিটামিন ডি-এর মাত্রা হ্রাস করতে পারে। তাই, জীবনযাত্রার ছোটখাটো পরিবর্তন না আনলে এই সমস্যাটি আরও সাধারণ হয়ে উঠছে। তাই, এর লক্ষণগুলি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
মহিলাদের Vitamin D-এর অভাবের লক্ষণগুলি কি কি?
আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ সালোনি চাড্ডা ব্যাখ্যা করেন যে Vitamin D-এর অভাবযুক্ত মহিলারা ক্রমাগত ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করতে পারে। হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা, বিশেষ করে পিঠ এবং পায়ে ব্যথা একটি সাধারণ লক্ষণ। পেশীতে টান বা ব্যথাও অনুভূত হতে পারে।
কিছু মহিলা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ঘন ঘন ঠান্ডা লাগা এবং সংক্রমণের অভিযোগ করেন। চুল পড়া এবং মেজাজের পরিবর্তনও লক্ষণ হতে পারে। কখনও কখনও, অনিদ্রা বা দুঃখের অনুভূতিও এই অভাবের সাথে যুক্ত হতে পারে। যদি এই সমস্যাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন : রেশমি-মসৃণ চুলের জন্য মাত্র তিনটি উপাদান দিয়ে ঘরেই কন্ডিশনার তৈরি করুন
কোন মহিলাদের Vitamin D-এর অভাবের ঝুঁকি বেশি?
যারা রোদে কম সময় কাটান তাদের ঝুঁকি বেশি। গর্ভবতী এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদেরও বেশি Vitamin D প্রয়োজন।
এই অভাব স্থূলকায় মহিলাদের এবং 40 বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের মধ্যেও বেশি দেখা যায়। যাদের ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাস বা হরমোনজনিত সমস্যা রয়েছে তাদেরও সতর্ক থাকা উচিত।
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন?
প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সকালের সূর্যালোকে নিজেকে উন্মুক্ত রাখুন। আপনার খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, পনির, ডিম এবং শক্তিশালী খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। নিয়মিত ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে, সম্পূরক গ্রহণের জন্য ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। নিয়মিত চেকআপ করিয়ে আপনার Vitamin D এর মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।