আপনিও কি উচ্চ কোলেস্টেরলের শিকার? তবে এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করুন

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং ভারসাম্যহীন খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

যদি এই ক্রমবর্ধমান কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে হৃদরোগ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হৃদরোগের মূল কারণ হলো কোলেস্টেরল

জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কিছু ভুলের কারণে মানুষ অল্প বয়সেই কোলেস্টেরলের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। যদি এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির যথাসময়ে চিকিৎসা না করা হয়, তবে এর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। কোলেস্টেরল আমাদের রক্তনালী বা শিরা-উপশিরায় জমা হতে থাকে। যার ফলে রক্ত​চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। এটি রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলে এবং পরিণামে হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। তাই এমন ধরনের খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে তেলের পরিমাণ কম থাকে এবং ফাইবারসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান থাকে।

কোলেস্টেরলের দুটি ধরন

কোলেস্টেরল মূলত দুই প্রকার: LDL এবং HDL। যেখানে HDL-কে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে LDL হলো এক ধরনের ‘খারাপ কোলেস্টেরল’। LDL-এর মাত্রা কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি

CDC-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ কোলেস্টেরলের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস—এটি ডায়াবেটিসের একটি সাধারণ ধরন, যার ফলে HDL-এর মাত্রা হ্রাস পায় এবং ‘লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন’ (LDL)-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। HDL-এর মাত্রা কমে যাওয়া এবং LDL-এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার এই বিপজ্জনক সংমিশ্রণটি হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনও একটি রোগ—স্থূলতার কারণেও LDL-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং HDL-এর মাত্রা হ্রাস পায়। অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ-সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যাধির ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াও, স্থূলতার কারণে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন : ঘুমের অভাবে কি দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে? জানুন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

যেসব ভুলের কারণে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ে

শরীরে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’-এর মাত্রা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। বর্তমান সময়ে মানুষ প্রচুর পরিমাণে ‘জাঙ্ক ফুড’ বা ফাস্ট ফুড গ্রহণ করছে। তারা লাল মাংস (Red meat) এবং বেকারি পণ্যও প্রচুর পরিমাণে খাচ্ছে; এসব খাবারে ‘ট্রান্স ফ্যাট’ থাকে, যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যদি কোনো ব্যক্তির শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তবে তার উচিত এই ধরনের খাবারগুলো সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা। এর পরিবর্তে, ফলমূল, সবুজ শাকসবজি এবং ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে শসা এবং অন্যান্য সবুজ শাকসবজির মতো ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করুন। যদি আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে, তবে ওটস, ওটমিল, বাদামি চাল (Brown rice), ফলমূল এবং সবুজ শাকসবজির মতো ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারগুলো নিয়মিত গ্রহণ করুন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article