যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের দিনে কয়টি রুটি খাওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন

আজকাল ওজন কমানোটা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, অনেকের মনেই একটি সাধারণ প্রশ্ন জাগে—ওজন কমানোর লক্ষ্যে পৌঁছাতে কি রুটি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া উচিত? নাকি দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণে রুটি খাওয়ার কোনো সীমা বা নিয়ম রয়েছে? এই নিবন্ধে, সঠিক উত্তরটি খুঁজে পেতে চলুন বিশেষজ্ঞদের মতামত জেনে নেওয়া যাক।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ‘থালি’ বা খাবারের পাতে রুটি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। অনেক ভারতীয়ের কাছেই রুটি ছাড়া খাবারটা অসম্পূর্ণ মনে হয়। তা দুপুরের খাবারই হোক বা রাতের—পাতে রুটি থাকাটা অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। তবে, যখন ওজন কমানোর বিষয়টি সামনে আসে, তখন মানুষের মনে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি জাগে তা হলো: সারাদিনে ঠিক কয়টি রুটি খাওয়াটা স্বাস্থ্যসম্মত বা উপযুক্ত? কেউ কেউ নিজেদের রুটি খাওয়ার পরিমাণ মাত্র এক বা দুটি রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন, আবার কেউ কেউ তো খাদ্যতালিকা থেকে রুটি পুরোপুরি বাদই দিয়ে দেন। অথচ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওজন কমানোর জন্য রুটি খাওয়া ছেড়ে দেওয়াটা কোনো পূর্বশর্ত নয়; বরং সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক পদ্ধতিতে রুটি গ্রহণ করাই হলো আসল কথা।

বর্তমান বিশ্বে, শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়াটা অধিকাংশ মানুষের জন্যই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই ওজন কমানোর লক্ষ্যে মানুষ এখন ডায়েটিং, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ওপর ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে, ওজন ঝরানোর প্রচেষ্টায় অনেকেরই প্রথম পদক্ষেপ হয় রুটি খাওয়ার পরিমাণ হুট করে অনেকটা কমিয়ে ফেলা কিংবা খাদ্যতালিকা থেকে রুটি পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেওয়া। কিন্তু এমনটা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এই নিবন্ধে, চলুন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিই—কার্যকরভাবে ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন ঠিক কয়টি রুটি খাওয়া উচিত।

ওজন কমানোর জন্য কি রুটি খাওয়া ছেড়ে দেওয়া জরুরি?

ওজন কমানোর যাত্রাপথে কেউ কেউ রুটি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, এটি সঠিক পদ্ধতি নয়। আপনার লক্ষ্য যদি হয় ওজন কমানো, তবে আপনি অবশ্যই রুটি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারেন; কিন্তু রুটি খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়াটা কোনো বাস্তবসম্মত বা কার্যকর সমাধান নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—সারাদিনে মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করা হচ্ছে, শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চার পরিমাণ এবং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস। রুটি যদি পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা হয়—তা গমের তৈরিই হোক, কিংবা বিভিন্ন শস্যের মিশ্রণ (মাল্টিগ্রেইন) বা বাজরার তৈরি হোক—তবে তা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইবার (তন্তু) এবং পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এই উপাদানগুলো পাকস্থলীকে দীর্ঘক্ষণ পূর্ণ রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।

ওজন কমানোর জন্য দিনে কয়টি রুটি খাওয়া উচিত? জয়পুরের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. কিরণ গুপ্ত ব্যাখ্যা করেন যে, ওজন কমানোর জন্য রুটি খাওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। আপনি যদি আগে দিনে তিনটি রুটি খেয়ে থাকেন, তবে প্রথমে তা কমিয়ে দুটি এবং পরবর্তীতে একটিতে নামিয়ে আনা উচিত। তাঁর মতে, আপনার খাদ্যতালিকায় ৯০ শতাংশই সালাদ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার থাকা উচিত; রুটি কেবল বাকি ১০ শতাংশ স্থান দখল করবে।

আরও পড়ুন : উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস কি কিডনির ক্ষতি করতে পারে? জনুন

ওজন কমানোর জন্য ঠিক কতটা প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন?

ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, ঠিক কতটা প্রোটিন প্রয়োজন, তা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং শরীরের ওজনের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের শারীরিক পরিশ্রম বা নড়াচড়া কম, তাদের শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য ১.২ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, যারা ওয়েট ট্রেনিং বা জিমে শরীরচর্চা করেন, তাদের শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য ১.৬ থেকে ২.২ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের লক্ষ্য রাখা উচিত। সহজ কথায় বলতে গেলে, ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় থাকাকালীন আপনার ওজন যদি ৭০ কিলোগ্রাম হয়, তবে আপনি (হালকা পরিশ্রমের ক্ষেত্রে) প্রায় ৮৪ থেকে ১০৫ গ্রাম অথবা (নিয়মিত শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম বা স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে) ১১২ থেকে ১৫৪ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article