‘পঞ্চাঙ্গ’ (হিন্দু পঞ্জিকা) অনুসারে, ‘নৌতপা’ (Nautapa) হলো গ্রীষ্মকালের টানা ৯ দিনের তীব্র দাবদাহের একটি সময়কাল। ‘নৌ’ (নয়) এবং ‘তাপ’ (গরম)—এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে এই নামকরণ হয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র ও হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, যখন সূর্য রোহিণী নক্ষত্রে প্রবেশ করে, তখন এই বিশেষ সময়টি শুরু হয়। সনাতন ধর্মে এই ৯ দিন বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিন বলে বিবেচনা করা হয়। এই সময় প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহ (লু) দেখা যায়।
এই নয় দিনকে অত্যন্ত সতর্কতার সময় হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ তীব্র রোদ, আর্দ্রতা এবং লু-হাওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি এই সময়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। বাইরের তীব্র তাপ থেকে শরীরকে রক্ষা করার পাশাপাশি ভেতর থেকেও শরীরকে শীতল রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই, সঠিক পোশাক নির্বাচন করাটা এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইতিমধ্যেই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে তাপমাত্রা ৪২°C থেকে ৪৫°C-এর মধ্যে পৌঁছে গেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নৌতপা’ শুরু হয়ে গেছে। এই সময়ে বেশ কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত: দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন, প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন, হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার খান, বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন এবং আপনার খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল ও শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। এছাড়া, তীব্র তাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে আপনার পোশাকের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন নির্দিষ্ট রঙ এবং কাপড়ের পোশাক পরলে গরমের অনুভূতি আরও বেড়ে যায়।
এই সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক এড়িয়ে চলুন
গ্রীষ্মকালে—এবং বিশেষ করে ‘নৌতপা’-র সময়ে—সিন্থেটিক কাপড়ের পোশাক পরা কঠোরভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। এর অন্তর্ভুক্ত কাপড়ের ধরনগুলো হলো—নাইলন, পলিয়েস্টার, স্প্যানডেক্স, অ্যাক্রিলিক এবং চামড়া (লেদার)। এর মূল কারণ হলো, এই কাপড়গুলো ঘাম শোষণ করতে খুব একটা সক্ষম নয়; ফলে এগুলো কেবল আপনাকে অতিরিক্ত গরম অনুভব করায় তাই নয়, বরং শরীরের তাপকে ত্বকের সাথে আটকে রেখে এক ধরণের ‘তাপ-ফাঁদ’ (heat trap) তৈরি করে। এই ধরনের পোশাক পরার ফলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা, যেমন—ছত্রাক সংক্রমণ (fungal infections), ফুসকুড়ি এবং ঘামাচির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এই রঙগুলো পরবেন না
গ্রীষ্মকালে, আপনার এমন পোশাক বেছে নেওয়া উচিত যা আপনাকে আরামদায়ক ও স্বস্তিদায়ক অনুভূতি দেয়। পোশাকের জন্য সঠিক কাপড় নির্বাচনের পাশাপাশি, এই ঋতুর উপযোগী রঙ নির্বাচন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কিছু রঙ তাপ শোষণ করে নেয়, যার ফলে আপনার অস্বস্তিকর গরম লাগতে পারে। তীব্র গরমের সময়—যেমন নৌতপা চলাকালীন—কালো, নেভি ব্লু, গাঢ় লাল বা মেরুনের মতো অত্যন্ত উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে, হালকা বা ‘প্যাস্টেল’ রঙের সংমিশ্রণ বেছে নিন। ফিকে গোলাপি (dusky pink), পিচ, সাদা, পাউডার ব্লু, মিন্ট গ্রিন, ক্রিম, ল্যাভেন্ডার এবং হালকা লেবুরঙের মতো শেডগুলো এই সময়ের জন্য চমৎকার পছন্দ।
আরও পড়ুন : চিয়া বীজের সাহায্যে ওজন কমাতে চান? জেনে নিন এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম
আঁটসাঁট পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন
নৌতপা চলাকালীন সঠিক কাপড় ও রঙ নির্বাচন করা যেমন জরুরি, তেমনি অতিরিক্ত আঁটসাঁট পোশাক পরা থেকেও বিরত থাকা উচিত। এমনটা করলে কেবল গরমে সৃষ্ট অস্বস্তি বা অস্থিরতার ঝুঁকিই বাড়ে না, বরং ত্বকে ফুসকুড়ি বা র্যাশ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এর ফলে ‘ঘামাচি’ (heat rash) দেখা দিতে পারে এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পায়।
কোন ধরনের কাপড় সবচেয়ে ভালো?
গ্রীষ্মকালে, সুতি এবং খাদি কাপড়কে নিঃসন্দেহে সেরা হিসেবে গণ্য করা হয়। সুতি কাপড়ের ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ধরনের কাপড় পাওয়া যায়; উদাহরণস্বরূপ, ‘পিমা কটন’-কে সুতির সবচেয়ে উন্নত বা প্রিমিয়াম জাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘আপল্যান্ড কটন’ হলো বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক ব্যবহৃত সুতি কাপড়ের ধরন এবং অধিকাংশ পোশাকেই এই সুতি ব্যবহৃত হয়। গ্রীষ্মের জন্য ‘কটন ভয়েল’ একটি চমৎকার পছন্দ, কারণ এটি অত্যন্ত হালকা এবং এতে বাতাস চলাচল করতে পারে। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য মলমল (muslin) কাপড়ও আরেকটি দারুণ বিকল্প।