আধুনিক যুগে ডায়াবেটিসের বিস্তার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। অনেকেই রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করে উপেক্ষা করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এর কোনো যত্ন নেন না; অথচ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের অসংখ্য অপরিহার্য অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে আনা না হয়, তবে তা ধীরে ধীরে শরীরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অনেক সময় রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে না, যার ফলে মানুষ পরীক্ষা করাতে দেরি করে ফেলে।
দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে তা শরীরের রক্তনালীগুলোর ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার মতো বিষয়গুলো ডায়াবেটিসের প্রকোপ ক্রমাগত বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে। অনেকেই তাদের ওষুধ সেবন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চেক-আপের বিষয়টিকে অবহেলা করেন, যার ফলে ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে, রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের কোন কোন অঙ্গগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে এবং তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত—সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা শরীরের কোন অঙ্গগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে?
‘আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন‘-এর মতে, রক্তে শর্করার অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা শরীরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তবে হৃদপিণ্ড, কিডনি, চোখ এবং স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
কারো কারো ক্ষেত্রে পায়ের স্নায়ু এবং রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে চলাফেরা বা হাঁটাচলার ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। অনেক সময় মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যায়; তাই, নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানোকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোন লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন যে আপনার অবিলম্বে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন?
অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং হঠাৎ করে কোনো আপাত কারণ ছাড়াই শরীরের ওজন কমে যাওয়া—এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং শরীরের কোনো ক্ষত বা আঘাত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগার মতো লক্ষণগুলোও দেখা দিতে পারে। যদি আপনার পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকে, অথবা আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার সমস্যায় ভুগে থাকেন, তবে নিয়মিত বিরতিতে শরীরের সার্বিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে তা এই শারীরিক অবস্থাকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন : নারীদের মধ্যে ক্যালসিয়ামের অভাবে কি কি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে?
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত?
একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন এবং চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ সীমিত করুন। আপনার দৈনন্দিন রুটিনে নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস যুক্ত করুন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত ওষুধগুলো নিয়মিত সেবন করুন। পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।