ওয়েব ডেস্ক: ফের মুখোমুখি ভারত ও চিন সেনা। এবার সংঘাতের কেন্দ্র অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং সেক্টর। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে গত সপ্তাহে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করে প্রায় ২০০ জন চিন সেনা, সূত্রের খবর এমনটাই। শুধু তাই নয়, জাতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক জানান, চিন সেনা ভারতের বাঙ্কারগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল।
সূত্রের খবর, তাওয়াং সেক্টরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে চিনা ফৌজের একটি বাহিনী। এই খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছয় ভারতীয় সেনা এবং চিন সেনাকে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এরপরেই ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করা চিনা সেনাদের অস্থায়ীভাবে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি সেনার তরফে দেওয়া হয়নি। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা, যা ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। গত সপ্তাহে হওয়া এই সংঘাত চলে বেশ কয়েক ঘণ্টা।
তবে পূর্ব লাদাখের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ায় এবার চিনা বাহিনী সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়নি। দুই দেশের সেনাবাহিনীর কম্যান্ডারদের খবর দেওয়া হলে তারা আলোচনার মাধ্যমে ওই সমস্যার সমাধান করে নেন বলে জানা গিয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের কাজ চলে সেনার প্রোটোকল মেনেই। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ভারতীয় সেনা বা নিরাপত্তা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
প্যান্ডোরার ঝাঁপি খুলতেই ফাঁস ভারতীয় প্রভাবশালীদের নাম
এদিকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে সীমান্ত সমস্যা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, চিনের তরফ থেকে যে উস্কানিমূলক আচরণ করা হচ্ছে তাতে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি চিন পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় যে সমস্যাগুলি হচ্ছে সেগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রটোকল মেনে চলবে।’
নিলামে Air India কিনল Tata গোষ্ঠী, ৬৮ বছর পর এয়ার ইন্ডিয়ার মালিক আবার Tata Sons
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি হয় ভারত ও চিনের ফৌজ। দু’পক্ষের জওয়ানরাই লোহার রড ও কাঁটাতার জড়ানো হাতিয়ার নিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা লড়াই করে। রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। ১৯৭৫ সালে পর এই প্রথম প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরেই সীমান্তে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০১৬ সালে ২০০-র বেশি সেনা ভারতীয় সীমানায় প্রবেশ করেছিল। কিন্তু, কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা আবার ফিরে যায়। এদিকে ২০১১ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত সীমান্তে ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি দেওয়াল তোলার চেষ্টা করে। এই বিষয়ে সরব হয়েছিল দিল্লি। অবশেষে পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েক দফা আলোচনা হয় দুই দেশের সেনাবাহিনী।