ওয়েব ডেস্ক: বিগত ১০ মাস ধরে দিল্লির তিন সীমান্তে পথ আটকে কৃষকরা কেন্দ্রের যে তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাচ্ছে, তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল শীর্ষ আদালত। দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান করতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অক্ষমতার বিষয়েও উষ্মা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ আদালত।
বিচারপতি সঞ্জয় কিশান কৌল এবং এম এম সুন্দরেশের একটি বেঞ্চ বলে, এই ধরনের প্রতিবাদকে সমাজের একটি অংশ হিসাবে দেখা হয়। তবে একইসঙ্গে এই আন্দোলনগুলি যাতে জনসাধারণের রাস্তায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে আইন বাস্তবায়ন করা প্রশাসনের কর্তব্য বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট।
জয়পুরের কিষান মহা-পঞ্চায়েতের তরফে দিল্লির জন্তরমন্তরে কৃষি আইনের বিরোধিতায় প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানোর জন্য আবেদন জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কৃষক সংগঠনের দাবি, দিল্লিতে করোনা-বিধি শিথিল করা হলেও ২০০ জনের আন্দোলনের কিছুতেই অনুমতি দিচ্ছে না দিল্লি পুলিশ।
পূর্ব লাদাখে লালফৌজের সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন, দাবি সেনাপ্রধানের
শুক্রবার বিচারপতি এম খানউইলকর ও বিচারপতি সিটি রবিকুমারের বেঞ্চের তরফে প্রশ্ন করা হয় যে, সুপ্রিম কোর্টে কৃষি আইনের বৈধতা নিয়ে একাধিক কৃষক সংগঠনের তরফে যে পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল, তার মধ্যে এই কৃষক সংগঠনটিও ছিল। আদালতের তরফে প্রশ্ন করা হয়, এর দিকে শীর্ষ আদালতের তরফে আইনের উপর দেড় বছরের স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষকরা এখনও দিল্লির প্রধান সড়কগুলি অবরোধ করে আন্দোলন করছে। আদালতে বিষয়টি পৌঁছনোর পরও কীভাবে পথ আটকে আন্দোলন চালাতে পারেন তারা?
বিচারপতিদের বেঞ্চের তরফে বলা হয়, “বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রবেশদ্বারেই সড়ক অবরোধ করে গোটা শহরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এখন আপনারা শহরের ভিতরে এসেও আন্দোলন করতে চান। কৃষি আইন সংক্রান্ত বিষয়টি যখন শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন পর্যায়ে রয়েছে, সেই সময় আপনারা ফের পথ আটকে আন্দোলন করতে পারেন না। আপনারা কি বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন?”
চিন কে জবাব দিতে তৈরি ভারতীয় সেনা, লাদাখে K-9 Vajra মোতায়েন ভারতের
বেঞ্চের তরফে আরও বলা হয়, হাজার হাজার কৃষক দিল্লি, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের সীমান্তে রাজ্যগুলির হাইওয়েতে গত বছরের নভেম্বর থেকে জড়ো হয়েছে। এই রাস্তাগুলি প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পরিবহন হয়। ঘুরপথে দিল্লি যেতে বা দিল্লি থেকে অন্য রাজ্যগুলি যেতে আধ ঘণ্টার জায়গায় কখনও কখনও ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। এর ফলে নাকাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি অভিমন্যুর অবশ্য বক্তব্য, ‘আমরা জনসাধারণের কোনও অসুবিধা করতে চাইনি। নাগরিকদের সিংহভাগই আমাদের সমর্থন জানিয়েছেন। আমরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করিনি, দিল্লির একটা প্রান্তে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি, যে আন্দোলনে মানুষের সহানুভূতি রয়েছে।’