Table of Contents
আজকাল, সকলেরই একটি ব্যস্ত সময়সূচী থাকে, সে অফিসের কর্মী হোক বা গৃহিণী। ফলস্বরূপ, তারা নিজেদের যত্ন নিতে পারে না। এই কারণেই আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু কাজে লিপ্ত হই যা আমাদের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, কিন্তু আমরা প্রায়শই তা বুঝতে পারি না। কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস ধীরে ধীরে আমাদের হাড়কে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে হাঁটুতে ব্যথা, ক্লান্তি এবং হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে।
ফলস্বরূপ, অল্প বয়সেই মানুষ হাড় সম্পর্কিত সমস্যায় ভুগছে। যদি আপনার ক্ষেত্রে এটি হয়, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। এই নিবন্ধে, আসুন এমন পাঁচটি অভ্যাস ভাগ করে নেওয়া যাক যা ধীরে ধীরে আপনার হাড়কে দুর্বল করে দিচ্ছে। আজই আপনার সেগুলি সংশোধন করা দরকার।
১. রোদে সময় না কাটানো
হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের শরীরের ভিটামিন ডি প্রয়োজন। অভাবের কারণে হাড়ের ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি মেটানোর জন্য দুগ্ধজাত পণ্য ভালো বলে মনে করা হয়, তবে এর সর্বোত্তম উৎস হল সূর্যের আলো। তবে, আজকাল মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে এত ব্যস্ত থাকে যে তারা রোদে অল্প সময়ও কাটাতে পারে না, যা ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির একটি প্রধান কারণ। তাই, আপনার অবশ্যই কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট রোদে থাকা উচিত।
২. অতিরিক্ত বসে থাকা
আজকাল বেশিরভাগ মানুষ ডেস্কে এমন কাজ করেন যেখানে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। তবে, একই অবস্থানে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকার ফলে শরীরে রক্তসঞ্চালন কমে যায়, যা হাড়ের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। ফলস্বরূপ, মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে যায়, পিঠ এবং হাঁটুতে ব্যথা বৃদ্ধি পায় এবং পেশী দুর্বল হতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে, আপনার প্রতি ১-২ ঘণ্টা অন্তর একটি ছোট বিরতি নেওয়া উচিত এবং হাঁটুতে ব্যথা হয়।
৩. ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন কম খাবার
আমাদের হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের শরীরে ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের প্রয়োজন। তবে, আজকাল, মানুষ প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড এবং চা এবং কফি বেশি খাচ্ছে। এর ফলে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এই কারণেই ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিনের ঘাটতি হাড়কে দুর্বল করে দেয়। হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং ক্লান্তিও দ্রুত দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য, আপনার খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
আরও পড়ুন : বাজার থেকে কিনে খাওয়ার দরকার নেই… বাড়িতে ‘হাজমোলা’ তৈরি করুন
৪. কম জল পান
মানুষ সাধারণত মনে করে যে জল পান করা শুধুমাত্র হাইড্রেশনের জন্য। কিন্তু এটি সত্য নয়। জলের অভাব আমাদের অস্থি মজ্জা এবং জয়েন্টগুলিকে সঠিকভাবে কাজ করতে বাধা দেয়। প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান না করলে জয়েন্ট শুষ্কতা, ব্যথা এবং ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হতে পারে। তাই, সম্ভব হলে দিনে কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল পান করুন।
৫. দেরিতে ঘুমানো এবং কম ঘুমানো
আজকাল, মানুষ তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি এতটাই আসক্ত যে এটি ব্যবহার না করে ঘুমানো কঠিন। ফলস্বরূপ, মানুষ রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি সিরিজ, নাটক এবং মোবাইল ফোনে গেম খেলে সময় কাটায়, যা তাদের ঘুমের মান নষ্ট করে। রাতে দেরিতে ঘুমানো হাড়ের কোষগুলিকে দুর্বল করে দেয়। তাই, প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
