Table of Contents
আজকাল উচ্চ রক্তচাপের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়া এই সমস্যাটিকে আরও গুরুতর করে তোলে। শীতকালে তাপমাত্রা কমে গেলে, শরীরের শিরাগুলি সংকুচিত হয়ে যায়, যা স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ বাড়ায়। ঠাণ্ডা বাতাস শরীরকে চাপ দেয় এবং পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহ বজায় রাখার জন্য হৃদপিণ্ডকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাছাড়া, মানুষ ঠাণ্ডায় শারীরিক কার্যকলাপ কমিয়ে দেয়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য শীতকালকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
শীতকালে উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ সংক্রান্ত অনেক গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওর এবং কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ঠাণ্ডায় রক্তসঞ্চালন ধীর হয়ে গেলে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথা ভারী হওয়া, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, হঠাৎ রক্তচাপ বৃদ্ধির ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে, নাক দিয়ে রক্তপড়া এবং তীব্র মাথাব্যথা হতে পারে। এগুলো সবই সতর্কতামূলক লক্ষণ এবং এগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়।
উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের শীতকালে এই বিষয়গুলো মনে রাখা উচিত।
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডাঃ এল.এইচ. ঘোটেকার ব্যাখ্যা করেন যে ঠাণ্ডা ঋতুতে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য। প্রথমত, আপনার শরীর উষ্ণ রাখুন এবং গরম পোশাক ছাড়া ঠাণ্ডা বাতাসে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন। সঠিক রক্তসঞ্চালন বজায় রাখার জন্য প্রতিদিন হালকা শারীরিক ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করুন, যেমন হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং। লবণ গ্রহণ কমিয়ে দিন এবং অতিরিক্ত ভাজা খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন : নিম থেকে লবঙ্গ সুস্থ দাঁত এবং মাড়ির জন্য শীর্ষ ৫টি ভেষজ প্রতিকার, জানুন
এই ঋতুতে মানুষ কম জল পান করে, যার ফলে জলশূন্যতা এবং হাইড্রেশন কম হয়। তাই, সারা দিন পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালকোহল এবং ধূমপানের ফলে রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, তাই এগুলো থেকে দূরে থাকুন। সময়মতো ওষুধ গ্রহণ করুন এবং নিয়মিতভাবে বাড়িতে রক্তচাপ মনিটর দিয়ে আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যানও খুবই উপকারী। এই অভ্যাসগুলি শীতকালে স্থিতিশীল রক্তচাপ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ:
- সকালে ঠাণ্ডায় বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন।
- গরম গরম জলে স্নান করুন।
- নিয়মিত আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।
- ভিটামিন ডি-এর অভাব এড়াতে হালকা রোদে দাঁড়ান।
- পর্যাপ্ত ঘুমান এবং মানসিক চাপ কমান।
