আপনি কি কাশি, সর্দি বা শরীর ব্যথার জন্য ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন? আপনি কি বছরের পর বছর ধরে এটি করছেন? যদি তাই হয়, তবে এখনই এটি বন্ধ করুন। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিজে নিজে চিকিৎসা করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ICMR-এর একটি গবেষণায়ও বলা হয়েছে যে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের ফলে দেশে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের (IMR) ঝুঁকি বাড়ছে। অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে, কিন্তু মানুষ ভাইরাল জ্বর, ফ্লু এবং সাধারণ সর্দির জন্য এগুলো গ্রহণ করছে। এটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে।
অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিজে নিজে চিকিৎসা করা কীভাবে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে
সফদরজং হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ যুগল কিশোর ব্যাখ্যা করেন যে, মানুষ অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছে। এর ফলে শরীরের ব্যাকটেরিয়াগুলো এই ওষুধগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলস্বরূপ, ব্যাকটেরিয়াগুলো ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে, যা সংক্রমণ মোকাবেলায় ওষুধগুলোকে অকার্যকর করে তুলছে। প্রতি বছর এই ধরনের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী প্রমাণিত হচ্ছে।
ডঃ কিশোর বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের জন্য তৈরি। কিন্তু মানুষ ভাইরাসজনিত সমস্যার জন্য এগুলো গ্রহণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ সাধারণ সর্দি এবং গলা ব্যথার জন্য অ্যাজিথ্রোমাইসিনের মতো ওষুধ খাচ্ছে, কিন্তু এই ওষুধগুলো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের জন্য তৈরি। সাধারণ সর্দি একটি ভাইরাসজনিত রোগ এবং আপনি ওষুধ খান বা না খান, এটি সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়।
মেডিকেল স্টোর এবং মানুষের সচেতনতার অভাব
দিল্লির GBT হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডঃ অজিত কুমার বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা উচিত নয়, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। মানুষ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই মেডিকেল স্টোর থেকে এই ওষুধগুলো কেনে। অনেকেই বছরের পর বছর ধরে এটি করছেন। ফলস্বরূপ, এই ওষুধগুলোর কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। অনেক সাধারণ ওষুধ অকার্যকর হয়ে পড়ছে এবং হালকা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কাজ করছে না। সাধারণ মূত্রনালীর সংক্রমণ থেকে শুরু করে নিউমোনিয়ার মতো সব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন : শীতের তীব্র ঠাণ্ডাতেও কি প্রতিদিন স্নান করা উচিত? জেনে নিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
ডাক্তার কুমার বলছেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধকে একটি নীরব মহামারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী বছরগুলোতে সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। এর ফলে রোগীদের অসুস্থতার চিকিৎসা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং সাধারণ সমস্যাগুলোও প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। তাই মানুষকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
কোন কোন সমস্যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত?
- নিউমোনিয়া
- টাইফয়েড
- UTI (মূত্রনালীর সংক্রমণ)
- যক্ষ্মা
(এই সমস্যাগুলোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এগুলো খাবেন না। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুধুমাত্র নির্ধারিত ডোজই গ্রহণ করুন – এর বেশিও নয়, কমও নয়।)
সাধারণ মানুষের কি করা উচিত?
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
- চিকিৎসার পুরো কোর্সটি সম্পূর্ণ করুন। অতিরিক্ত বা কম ডোজ গ্রহণ করবেন না।
- অবশিষ্ট ওষুধ পুনরায় ব্যবহার করবেন না।