লু-হাওয়ার (Heatwaves) হুমকি! তীব্র গরম থেকে নিজেকে বাঁচাতে এই আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত কার্যকর

উত্তর ভারতসহ দেশের অধিকাংশ স্থানেই আবহাওয়া বর্তমানে বৃষ্টি এবং গরমের পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী দিনগুলোতে তীব্র গরম পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আপনি আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে পারেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বর্তমানে এপ্রিল মাস চলছে; সাম্প্রতিক বৃষ্টির সুবাদে আবহাওয়া এখনো কিছুটা শীতল রয়েছে। তবে তীব্র গরমের দিন আসন্ন, আর এর সাথে আসছে লু-হাওয়া (Heatwaves) এবং হিটস্ট্রোকের মতো ভয়াবহ বিপদ। গরমের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যেতে পারে যে, ঘরের বাইরে পা রাখাও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে, গ্রীষ্মের এই তীব্র গরম সহ্য করতে গিয়ে মানুষকে প্রায়শই হিমশিম খেতে হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (AC) বা কুলারের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে, মানুষ সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং ঋতু পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।

এই নিবন্ধে আমরা এমন কিছু সুনির্দিষ্ট আয়ুর্বেদিক পদ্ধতির কথা তুলে ধরব, যা আপনি এখনই গ্রহণ করতে পারেন—যাতে আসন্ন গ্রীষ্মের দিনগুলোতেও আপনি সুস্থ ও সতেজ থাকতে পারেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এই সহজ অথচ অত্যন্ত কার্যকর কৌশলগুলো সম্পর্কে।

গ্রীষ্মকালে সুস্থ থাকার উপায়

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, শরীরের তিনটি ‘দোষ’—বাত, কফ এবং পিত্ত—এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এই দোষগুলোর যেকোনো একটির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে, ঋতু নির্বিশেষে শরীর নানা রোগব্যাধি ও অস্বস্তির শিকার হয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালে ‘পিত্ত দোষ’-এর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি; কারণ তীব্র গরমের কারণে হজম সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রায়শই বেড়ে যায়। হজম প্রক্রিয়ায় দীর্ঘস্থায়ী ভারসাম্যহীনতার ফলে বমি, ডায়রিয়া, বদহজম, পেটে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

গরম থেকে নিজেকে বাঁচাতে ৩টি সহজ প্রতিকার

শরীরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্দ্র (Hydrated) রাখুন

জয়পুরের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. কিরণ গুপ্ত পরামর্শ দেন যে, আমাদের দিনের শুরুটা অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে জলপান বা হাইড্রেশনের মাধ্যমে করা উচিত। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে জলের পরিমাণ অপর্যাপ্ত থাকলে তা শারীরিক ধকল বা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম জল পান করার অভ্যাস করুন; জলের সাথে সামান্য লেবুর রস এবং এক চিমটি হলুদ মেশাতে ভুলবেন না। সুস্থ ও সতেজভাবে দিনের সূচনা করার জন্য এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার উপায়। বিকল্প হিসেবে, আপনি আপনার দিনটি এক গ্লাস সতেজকারী ডাবের জল দিয়ে শুরু করতে পারেন। জয়পুরের পুষ্টিবিদ সুরভি পারিখ পরামর্শ দেন যে, যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের খালি পেটে ডাবের জল পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত; কারণ এমনটা করলে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে। তবে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে শরীরে জলের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে, প্রতিদিন অন্তত একবার ডাবের জল পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে আমাদের খাদ্যাভ্যাস হওয়া উচিত বেশ হালকা। এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত যা সেই ঋতুতে সহজলভ্য এবং হজমে সহজ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, এমন খাবার খাওয়া উচিত যা গরম আবহাওয়ায় শরীরের স্বাভাবিক চাহিদার সাথে মানানসই। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত ঝাল বা তেলে ভাজা গুরুপাক খাবার খাওয়ার ভুলটি এড়িয়ে চলুন। আয়ুর্বেদিক নীতি অনুসারে, এ ধরনের খাবার শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে অ্যাসিডিটি বা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। হজমতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ—এমন শীতলকারী ডাল, যেমন—মুগ ডাল (সবুজ মুগ) বেছে নিন।

আরও পড়ুন : গভীর ঘুমের সাথে আপনার স্বপ্নের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক: নতুন গবেষণা কী বলছে, জেনে নিন

শ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম অনুশীলন করুন

গ্রীষ্ম হোক বা শীত, আমাদের প্রতিদিন শ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম অনুশীলন করা উচিত। এই ব্যায়ামগুলোর মূল বিষয় হলো শ্বাস গ্রহণ ও ত্যাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনুশীলন করা, যা সকলের জন্যই অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়। এই অনুশীলন পদ্ধতিটি কেবল শারীরিক স্বাস্থ্যেরই উন্নতি ঘটায় না, বরং মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতাও বৃদ্ধি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতলী এবং শীতকারী প্রাণায়াম শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।

এ ছাড়াও, অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীরকে সচল ও কর্মচঞ্চল রাখতে প্রতিদিন বালাসনা (Child’s Pose) অনুশীলন করা যেতে পারে। আপনার দৈনন্দিন রুটিনে মাত্র ১০ মিনিটের শ্বাসের ব্যায়াম যুক্ত করতে পারলে তা আপনাকে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article