ভারতের তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে চোখের সমস্যাগুলো দ্রুত হারে বাড়ছে। ধুলোবালি, গরম বাতাস, বাতাসের কম আর্দ্রতা এবং একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার অভ্যাসের কারণে চোখের জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, লালচে ভাব এবং অ্যালার্জির সমস্যা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাটি বিশেষ করে সেইসব মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার ব্যবহার করেন। চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা কিছু নির্দিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
গরমে চোখ সুরক্ষিত রাখার উপায়সমূহ
- ঠান্ডা জলের ব্যবহার: দিনে ৩-৪ বার চোখে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন; এটি চোখকে সতেজ রাখে এবং গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেয়।
- সানগ্লাস ব্যবহার: বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ইউভি (UV) সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস ব্যবহার করুন, যাতে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।
- শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা: শরীরের জলের পরিমাণ বা আর্দ্রতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা অটুট থাকে।
- চোখকে বিশ্রাম দিন: আপনি যদি একটানা স্ক্রিনের সামনে বসে কাজ করেন, তবে মাঝে মাঝে চোখকে বিশ্রাম দিন এবং রাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: যদি চোখে অতিরিক্ত লালচে ভাব, ব্যথা অথবা একটানা জল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের আই-ড্রপ বা চোখের ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
- কন্টাক্ট লেন্সের ব্যবহার সীমিত করুন: চিকিৎসকরা গ্রীষ্মকালে কন্টাক্ট লেন্সের পরিবর্তে চশমা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তীব্র তাপ এবং শুষ্ক বাতাসের কারণে লেন্স দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে, যা চোখে সংক্রমণ এবং জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
যারা মোবাইল ফোনে কাজ করেন, তাদের প্রতি ২০ মিনিট অন্তর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে থাকা উচিত। এই নিয়মটিকে “২০-২০-২০ নিয়ম” (20-20-20 rule) বলা হয়। এছাড়া, চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ঘন ঘন চোখে জলের ঝাপটা দিয়ে ধুয়ে নিন।
আরও পড়ুন : ৫ টি খাবার যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, আপনি কি খাচ্ছেন সেগুলো?
তাপ ও স্ক্রিন ব্যবহারের সময় বৃদ্ধি—উভয়ই বাড়ায় চোখের সমস্যা
তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ইদানীং মানুষের ‘স্ক্রিন টাইম’ বা স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময়ও অনেক বেড়ে গেছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ফলে চোখের পলক ফেলার হার বা চোখের পাতা ফেলার প্রবণতা কমে যায়। সাধারণত একজন মানুষ প্রতি মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পলক ফেলে থাকেন; কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় এই সংখ্যা কমে ৬ থেকে ৮-এ নেমে আসে। এর ফলে চোখের উপরিভাগের জলীয় স্তরটি দ্রুত শুকিয়ে যায়, যার ফলে শুষ্কতা, চুলকানি এবং অস্বস্তির সৃষ্টি হয়।