উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে? জানুন

আজকাল সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে এবং পেশি গঠন করতে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে। এর পাশাপাশি, অনেক মানুষের মধ্যেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং ইউরিক অ্যাসিডের মধ্যকার সম্পর্কটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি; পাশাপাশি এটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, এই ধরণের খাবার সত্যিই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে কি না।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বর্তমান সময়ে, ফিটনেস বজায় রাখা এবং ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবারের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশি গঠন, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে অনেকেই তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলস্বরূপ, ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল, দুগ্ধজাত পণ্য এবং প্রোটিন সাপ্লিমেন্টের মতো খাবারগুলোর চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে অন্যদিকে, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সমস্যাটিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা হাড়ের জোড়ায় ব্যথা, প্রদাহ এবং গেঁটেবাতের (Gout) মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড হলো শরীরের অভ্যন্তরে উৎপন্ন একটি বর্জ্য পদার্থ; স্বাভাবিক অবস্থায় এটি কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে, তখন এটি শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে এবং নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যার জন্ম দেয়। ফলে মানুষের মনে প্রায়শই একটি প্রশ্ন জাগে: অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে? চলুন, উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং ইউরিক অ্যাসিডের মধ্যকার সম্পর্কটি বিশদভাবে খতিয়ে দেখি এবং এই বিষয়ে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করি।

Find out if high-protein foods can raise uric acid levels.

উচ্চ-প্রোটিনযুক্ত খাবার কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে?

কেবল প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করাই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার একমাত্র বা মূল কারণ নয়। এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে প্রোটিনটি ঠিক কোন উৎস থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে, তার ওপর। নির্দিষ্ট কিছু খাবারে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা সরাসরি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে, প্রোটিনসমৃদ্ধ কিছু খাবারে ‘পিউরিন’ (Purine)-এর পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। শরীরের অভ্যন্তরে এই পিউরিন ভেঙে গিয়েই ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই, কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর পরিমাণে ‘উচ্চ-পিউরিনযুক্ত’ খাবার গ্রহণ করতে থাকেন, তবে তার শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা সত্যিই বেড়ে যেতে পারে।

তবে, প্রোটিনের সব উৎস কিন্তু একই ধরনের প্রভাব ফেলে না। ডিম, দুধ, দই এবং বিভিন্ন উদ্ভিদজাত উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রোটিনকে সাধারণত অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ও অধিক উপকারী বিকল্প হিসেবে গণ্য করা হয়। এদিকে, যারা ইতিমধ্যেই ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রাজনিত সমস্যায় ভুগছেন, তাদের খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই একজন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের (Dietitian) পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমিত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা অপরিহার্য।

প্রোটিন-সমৃদ্ধ কোন খাবারগুলো সতর্কতার সাথে গ্রহণ করা উচিত?

মেও ক্লিনিকের (Mayo Clinic) মতে, যেসব ব্যক্তির ইউরিক অ্যাসিড সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু ‘উচ্চ-পিউরিন’ (high-purine) যুক্ত প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই খাবারগুলোর মধ্যে রয়েছে লাল মাংস (red meat), অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস (organ meats), এবং নির্দিষ্ট কিছু ধরণের মাছ ও সামুদ্রিক খাবার।

এর অর্থ এই নয় যে, এই খাবারগুলো খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে; বরং, এগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাকেই অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। এর বিপরীতে, ডিম, কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য এবং বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনের উৎসগুলোকে অপেক্ষাকৃত ভালো বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন : পিত্তথলিতে পাথর কীভাবে তৈরি হয়? একজন বিশেষজ্ঞের বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানুন

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা এবং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা নিশ্চিত করুন। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা এবং শরীরের একটি সুস্থ ওজন বজায় রাখাও এক্ষেত্রে উপকারী প্রমাণিত হতে পারে।

এছাড়া, চিনিযুক্ত পানীয়, অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অ্যালকোহল বা মদ্যপান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। যদি আপনার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তবে নিয়মিত বিরতিতে শারীরিক পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শগুলো কঠোরভাবে মেনে চলুন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article