চুল অকালে পেকে যাওয়ার পেছনে কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দায়ী হতে পারে? জানুন

অনেকেই প্রায়শই চুল অকালে পেকে যাওয়ার সমস্যার সম্মুখীন হন। তুলনামূলকভাবে অল্প বয়সেই তারা এই সমস্যার শিকার হন। তাই, এই ঘটনার পেছনের মূল কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। চলুন, আমরা সেই কারণগুলো খতিয়ে দেখি।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বর্তমান সময়ে, অল্প বয়সেই চুল পেকে যাওয়ার সমস্যাটি ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে। একসময় পাকা চুলকে বার্ধক্যের লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হলেও, বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও এই সমস্যাটি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস এর জন্য দায়ী হতে পারে; তবে, শরীরে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও চুলের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চুলের স্বাভাবিক রঙ নির্ভর করে ‘মেলানিন’ নামক একটি রঞ্জক পদার্থের ওপর। যখন শরীরে নির্দিষ্ট কিছু অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন চুলের গুণমান এবং রঙ—উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেকেই কেবল চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত প্রসাধনী বা ‘হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট’ পরিবর্তন করেই এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেন; অথচ অনেক ক্ষেত্রেই শরীরের অভ্যন্তরীণ পুষ্টিগত অবস্থাই হতে পারে এই সমস্যার প্রকৃত মূল কারণ। তাই, চুল অকালে পেকে যাওয়ার সাথে কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি জড়িত এবং কোন কোন সতর্কসংকেতগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়—তা চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কোন কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি চুল অকালে পেকে যাওয়ার কারণ হতে পারে?

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন‘-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি চুলের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ভিটামিন B12, আয়রন (লৌহ), ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, কপার (তামা) এবং জিংক-এর মতো পুষ্টি উপাদানগুলোকে চুল সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পুষ্টি উপাদানগুলোর ঘাটতি চুল দুর্বল হয়ে যাওয়া, চুল পড়ে যাওয়া এবং চুল অকালে পেকে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তবে, চুল পেকে যাওয়ার একমাত্র কারণ কিন্তু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি নয়। অনেক ক্ষেত্রেই বংশগত বা জিনগত কারণও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি পরিবারের পূর্বপুরুষদের মধ্যে চুল অকালে পেকে যাওয়ার ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই, শুধুমাত্র বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে চুল পেকে যাওয়ার সমস্যাকে কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ফল হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এর প্রকৃত অন্তর্নিহিত কারণটি শনাক্ত করার জন্য একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয়মূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো বাঞ্ছনীয়।

কোন কোন লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন যে আপনার শরীরের পুষ্টি উপাদানের মাত্রা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন?

যদি আপনার চুল অকালে ধূসর হয়ে যায় এবং একই সাথে দ্রুত ঝরে পড়তে থাকে; যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা বা ক্রনিক ক্লান্তিতে ভোগেন; অথবা যদি আপনি আপনার ত্বক ও নখের অবস্থায় স্পষ্ট কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন—তবে আপনার শরীরের পুষ্টি উপাদানের মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তাছাড়া, ঘন ঘন মাথা ঘোরা, কোনো কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া কিংবা শরীরে সার্বিক শক্তির অভাবও নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এমতাবস্থায়, একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো আপনার জন্য উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন : গ্রীষ্মকালে ডিম খাওয়া কি নিরাপদ? জেনে নিন আসল তথ্য

চুল সুস্থ রাখতে কি করা যেতে পারে?

আপনার চুল সুস্থ ও সতেজ রাখতে একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। আপনার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম, বিভিন্ন ধরনের বীজ এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন, মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ধূমপানের মতো ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো পরিহার করুন।

এছাড়া, চুলে কঠোর রাসায়নিক উপাদানযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন; আর যদি কোনো সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা থেকেই যায়, তবে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article