আমরা মুখের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নানা ধরনের প্রসাধনী ও ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করি, কিন্তু শরীরের অন্যান্য অংশের—বিশেষ করে কনুইয়ের—যত্ন নিতে প্রায়ই ভুলে যাই। এ কারণেই সময়ের সাথে সাথে কনুইয়ের ত্বক শুষ্ক, নিষ্প্রাণ ও কালো হয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত, সঠিক ত্বকের যত্ন এবং কয়েকটি সাধারণ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
কনুই কেন কালো হয়ে যায়?
শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় কনুইয়ের ত্বক বেশ পুরু হয়। এই অংশটি প্রতিনিয়ত ভাঁজ হতে থাকে। এছাড়া এখানে প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণকারী গ্রন্থির সংখ্যা কম থাকায় ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। মৃত কোষের স্তর জমা হওয়া এবং ক্রমাগত ঘর্ষণের ফলে কনুই ধীরে ধীরে কালো হয়ে পড়ে।
কনুই কালো হওয়ার প্রধান কারণসমূহ:
- ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা
- মৃত কোষ বা ডেড স্কিন সেল জমে যাওয়া
- হরমোনের পরিবর্তন
- স্থূলতার মতো কিছু শারীরিক সমস্যা
কনুই, ঘাড়, হাঁটু বা শরীরের অন্যান্য অংশে কালো দাগ যদি হঠাৎ বাড়তে থাকে, তবে তা উপেক্ষা করবেন না; প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (ডার্মাটোলজিস্ট) পরামর্শ নিন।
আরও পড়ুন : বর্ষায় কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? সুস্থ থাকার নিয়মগুলো জেনে নিন
কনুইয়ের কালো দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
অ্যালোভেরা জেল: অ্যালোভেরা ত্বককে শীতল রাখতে ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কনুইয়ে তাজা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট রাখুন এবং এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
আলুর রস: আলুতে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম ত্বকের রঙ সমান করতে সাহায্য করে। আলুর টুকরো দিয়ে কনুইয়ের ওপর কয়েক মিনিট আলতো করে ঘষুন এবং ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
টক দই ও মধু: টক দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে এবং মধু ত্বককে আর্দ্র রাখে। দুটি উপাদান মিশিয়ে কনুইয়ে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
নারকেল তেল: কনুই খুব বেশি শুষ্ক হলে প্রতি রাতে নারকেল তেল দিয়ে আলতো করে মালিশ করুন। এটি ত্বককে কোমল রাখবে, শুষ্কতা কমাবে এবং কালো ভাব দূর করতেও সাহায্য করবে।