সাধারণত বলা হয়ে থাকে, “প্রতিদিন একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়।” তবে আপনি কি জানেন যে, খুব কম দামে পাওয়া স্থানীয় ফল ‘পেয়ারা’ স্বাস্থ্যের জন্য আপেলের চেয়েও বেশি উপকারী হতে পারে? চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখলে শরীর প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান পায়।
ভিটামিন সি-এর এক বিশাল উৎস
অনেকেই মনে করেন ভিটামিন সি কেবল লেবুজাতীয় টক ফলেই পাওয়া যায়; কিন্তু বাস্তবে আপেলের তুলনায় পেয়ারাতে প্রায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ঋতুভিত্তিক সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে পেয়ারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হজমতন্ত্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ
পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা হজমজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য পেয়ারা খাওয়া অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি অন্ত্র পরিষ্কার রাখে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) অত্যন্ত কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন। এটি শরীরের ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এছাড়া, এতে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
আরও পড়ুন : রসুন কি সত্যিই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়? জেনে নিন চিকিৎসকেরা কি বলছেন
হৃদযন্ত্র ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য চমৎকার
পেয়ারাতে প্রচুর পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, পেয়ারার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের বলিরেখা প্রতিরোধ করতে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চিকিৎসকরা কী বলেন?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, আপেল বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে এবং সবার পক্ষে প্রতিদিন তা খাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে; কিন্তু পেয়ারা সাশ্রয়ী মূল্যে সহজেই পাওয়া যায়। পুষ্টিগুণের বিচারে পেয়ারাকে ‘সুপারফুড’ বলা যেতেই পারে। প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা পাওয়া যায়।