ঘুমের অভাব বিষণ্ণতা সৃষ্টি করতে পারে। জেনে নিন সারাদিনে কত ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।

3 Min Read
ঘুমের অভাব বিষণ্ণতা সৃষ্টি করতে পারে। জেনে নিন সারাদিনে কত ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ঘুম শরীর এবং মন উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। যখন আমরা ঘুমাই, তখন শরীর নিজেকে মেরামত করে এবং দিনের ক্লান্তি থেকে সেরে ওঠে। পর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা মেজাজ, মনোযোগ এবং শক্তির মাত্রা উন্নত করে। তবে, ঘুমের অভাব ক্লান্তি, বিরক্তি এবং দুর্বলতার কারণ হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস করে এবং স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলে। অতএব, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম কেবল শরীরকে সুস্থ রাখে না বরং মানসিক স্থিতিশীলতা এবং ভালো মেজাজের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘুমের অভাব মস্তিষ্কে সেরোটোনিন এবং ডোপামিনের মতো খুশির হরমোনের মাত্রা হ্রাস করে। এটি একজন ব্যক্তিকে খিটখিটে, দুঃখী এবং নেতিবাচক বোধ করে, যা ধীরে ধীরে বিষণ্ণতার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তদুপরি, ঘুমের অভাব মানসিক চাপ, উদ্বেগ, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। ঘুমের অভাব শরীরকে ক্লান্ত করে তোলে এবং মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে। ঘুমের অভাব হৃদরোগ, স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ায়। অতএব, উন্নত মানসিক স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন : দূষণ জনিত কারণে কাশি? এই আয়ুর্বেদিক প্রতিকার উপশম করবে, জানুন

কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?

লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের ডাঃ এল.এইচ. ঘোটেকার ব্যাখ্যা করেন যে বয়স অনুসারে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা, কিশোর-কিশোরীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা এবং শিশুদের ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম শক্তি সরবরাহ করে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি মেজাজ স্থিতিশীল করে এবং চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যারা পর্যাপ্ত ঘুম পান তাদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নত হয়। ভালো ঘুম হৃদরোগ, বিপাক এবং ত্বকের উজ্জ্বলতাও উন্নত করে। অতএব, প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা ভালো ঘুমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ:

  • ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন বা টিভি স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন।
  • রাতে ক্যাফেইন এবং ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
  • একটি শান্ত এবং মৃদু আলোযুক্ত ঘর তৈরি করুন।
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।
  • ধ্যান বা হালকা যোগব্যায়াম গভীর ঘুমের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

Disclaimer: এই নিবন্ধটি কেবল তথ্যবহুল এবং চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article