সকালে খালি পেটে কফি পান করা কি সঠিক নাকি ভুল? জানুন একজন পুষ্টিবিদের কাছ থেকে

অনেকেই তাদের সকাল শুরু করেন খালি পেটে এক কাপ কফি দিয়ে। একে কেবল একটি সাধারণ অভ্যাস হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি স্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর হতে পারে। চলুন, ডা. অনামিকা গৌরের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

অনেকেই কফি দিয়ে তাদের দিন শুরু করতে পছন্দ করেন, কারণ এটি তাদের তাৎক্ষণিক শক্তি ও সজাগ থাকার অনুভূতি প্রদান করে। ক্যাফেইন মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগায়, যা মানুষকে দ্রুত ঘুম ভাঙাতে এবং কাজ করার অনুপ্রেরণা বাড়াতে সাহায্য করে। ব্যস্ত জীবনযাপন এবং খুব ভোরে কাজ শুরু করার অভ্যাসের কারণে, অনেকেই সকালের নাস্তা করার আগেই কফি পান করে ফেলেন।

এমতাবস্থায়, সকালে খালি পেটে কফি পান করা স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কফিতে উপস্থিত ক্যাফেইন এবং অম্লীয় উপাদানগুলো শরীরের ভেতরে খুব দ্রুত কাজ করে; কারণ সেই সময়ে পাকস্থলী সম্পূর্ণ খালি থাকে। ক্যাফেইন স্ট্রেস হরমোনের (মানসিক চাপের হরমোন) মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয়। ঠিক এই কারণেই কেউ কেউ সকালে কফি পান করার পর স্নায়বিক অস্থিরতা বা ছটফটানি অনুভব করেন। তাই, এই অভ্যাসটির ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া এবং শরীরের সুনির্দিষ্ট চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সকালে খালি পেটে কফি পান করলে কি কি সমস্যা দেখা দিতে পারে?

দিল্লির জিটিবি হাসপাতালের সাবেক পুষ্টিবিদ ডা. অনামিকা গৌর ব্যাখ্যা করেন যে, সকালে খালি পেটে কফি পান করলে শরীরের ভেতরের অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি পরিপাকতন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ক্যাফেইন শরীরের স্ট্রেস হরমোনগুলোকেও প্রভাবিত করে, যা অস্থিরতা, উদ্বেগ বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে, এই অভ্যাসটি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যার ফলে সারাদিন ধরে ক্লান্তি অনুভূত হতে থাকে। তাছাড়া, খালি পেটে কফি পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা দেখা দিতে পারে। তাই, এই অভ্যাসের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সকালে কফি পান করার সঠিক নিয়ম কি?

কফির সম্ভাব্য ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে এর পূর্ণ সুফলগুলো ভোগ করার জন্য, কফি পান করার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিটি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই জল পান করার চেষ্টা করুন এবং এরপর হালকা নাস্তা সেরে কফি পান করুন। এতে কফি আপনার পাকস্থলীতে সরাসরি বা তীব্র কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না। কফি পানের পরিমাণ সীমিত রাখাও বুদ্ধিমানের কাজ; সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ কাপ কফিই যথেষ্ট বলে মনে করা হয়।

অতিরিক্ত কড়া বা তীব্র কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন এবং কফিতে চিনির ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে দিন। আপনার যদি আগে থেকেই পাকস্থলী বা ঘুম-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকে, তবে আপনার জন্য কফি পানের উপযুক্ত সময় ও পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়ে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে এবং পরিমিত পরিমাণে কফি পান করাই হলো সর্বোত্তম পন্থা।

আরও পড়ুন : ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাস যা নীরবে আপনার দাঁতের ক্ষতি করছে—আপনিও কি এই ভুলগুলো করছেন?

কফির বিকল্প হিসেবে এই পানীয়গুলো বেছে নিতে পারেন

আপনি যদি সকালে বাড়তি শক্তি ও সতেজতা অনুভব করতে চান, তবে কফির বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়ার মতো বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হালকা গরম লেবুজল, হার্বাল টি (ভেষজ চা) কিংবা গ্রিন টি আপনার শরীরকে আলতোভাবে সচল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে। এছাড়া, ডাবের জল কিংবা সাধারণ গরম পানিও ইতিবাচকভাবে আপনার দিনটি শুরু করার জন্য চমৎকার বিকল্প হতে পারে।

এই বিকল্প পানীয়গুলো শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। সকালে হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করাও শরীরের শক্তির মাত্রা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই অভ্যাসগুলো গড়ে তোলার মাধ্যমে আপনি ক্যাফেইনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করেই সারাদিন ধরে নিজেকে কর্মচঞ্চল ও সতেজ অনুভব করতে পারবেন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article