দূষণের ক্রমবর্ধমান মাত্রা এবং ধূমপানের মতো অভ্যাসগুলো ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে, ফুসফুসের সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুসফুস সুস্থ রাখার কার্যকর উপায়গুলো কি কি? আর ফুসফুসকে কি সত্যিই ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করা সম্ভব? এই প্রশ্নটি সামনে আসে কারণ, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন যে ফুসফুস ডিটক্সিফিকেশন সম্ভব; তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলেন যে, নির্দিষ্ট কোনো চা বা ‘ডিটক্স পণ্য’ সেবনের মাধ্যমে ফুসফুসকে বিষমুক্ত করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নথিপত্রে বা গবেষণায় এমন দাবির সপক্ষে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই; তবে ফুসফুসের নিজস্ব একটি অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে এটি নিজেকে অনেকটাই পরিষ্কার বা পরিশুদ্ধ করে নিতে পারে। তা সত্ত্বেও, ফুসফুসের স্বাস্থ্য সক্রিয়ভাবে বজায় রাখতে এবং এর উন্নতি ঘটাতে কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাস বা নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।
ফুসফুস সুস্থ রাখার সর্বোত্তম উপায় কি?
ম্যাক্স হাসপাতালের (শালিমার বাগ) পালমোনোলজি ও রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ডা. হেমন্ত কালরা ব্যাখ্যা করেন যে, ফুসফুস সুস্থ রাখার একটি মৌলিক পূর্বশর্ত হলো ধূমপান ত্যাগ করা—যদি আপনি বর্তমানে ধূমপান করে থাকেন। এর কারণ হলো, ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অভ্যন্তরে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী ও অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একবার ধূমপান ছেড়ে দিলে, আপনার ফুসফুস নিজস্ব নিরাময় প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় এবং আগের অবস্থার তুলনায় ফুসফুসের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
দূষণ থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থাও অপরিহার্য
বর্তমান পরিস্থিতিতে, বাতাসের নিম্নমান বা দূষিত বাতাস ফুসফুসের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূষিত বাতাসে ভাসমান অতি-ক্ষুদ্র কণাগুলো শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং সেখানে প্রদাহ সৃষ্টি করে। দূষণের উচ্চমাত্রা ঠিক ধূমপানের মতোই শরীরের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এই ঝুঁকিগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ধুলোবালিপূর্ণ বা অত্যধিক দূষিত এলাকা এড়িয়ে চলা এবং সর্বদা নাক ও মুখ ঢেকে একটি N95 মাস্ক পরিধান করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া, সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে গরম জলের ভাপ বা বাষ্প (steam inhalation) গ্রহণ করাও বেশ উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি মনে রাখবেন, যখন বাতাসের গুণমান সূচক বা AQI-এর মাত্রা খুব বেশি থাকে, তখন সকালে বাইরে হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকা উচিত; এর পরিবর্তে ঘরের ভেতরেই ব্যায়াম করা শ্রেয়।
আরও পড়ুন : আম খেলে কি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে? স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে আম খাওয়ার সঠিক উপায় জানুন
আপনার দৈনন্দিন রুটিনে নিচের ব্যায়ামগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করতে পারেন:
আপনি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটতে পারেন। তাছাড়া, জগিং ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আপনি যোগব্যায়ামও অনুশীলন করতে পারেন, কারণ এটিও ফুসফুসের জন্য উপকারী। ব্যায়ামের পাশাপাশি আপনার খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দিন; আপনার প্রতিদিনের খাবারে ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করতে ভুলবেন না।