ঋতু পরিবর্তনের সময় বাতাসের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা পরিবর্তিত হয়। এই সময়ে, ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস কানের ভেতরে দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। সর্দি, কাশি, ফ্লু, অথবা নাক বন্ধ থাকলে কানের ভেতরে চাপ পরিবর্তন হয়, যার ফলে কানে ভারী ভাব বা ব্যথা হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে কানে ব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং কখনও কখনও সামান্য জলীয় স্রাব অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। যদি আপনি তীব্র কানে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ভারী বোধ অনুভব করেন, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ, অন্যথায় সমস্যাটি আরও খারাপ হতে পারে।
আবহাওয়ার পরিবর্তন কেবল সংক্রমণই নয়, কানের মোম জমা, কানে আটকে যাওয়া, চাপের পরিবর্তনও হতে পারে। কখনও কখনও, উচ্চ শব্দ অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এই সময়ে সাইনাস এবং গলার সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়, যা কানকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সময়ে, ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি কানে আঘাত করলে জ্বালা বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে বাইক চালানোর সময়। যদি সাবধানতা অবলম্বন না করা হয়, তাহলে কানের সমস্যা আরও খারাপ হতে পারে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পরিবর্তিত আবহাওয়ায় কানের সংক্রমণের চিকিৎসা কীভাবে করবেন?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন থেকে কানকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠাণ্ডা বাতাসের সরাসরি সংস্পর্শে আসা এড়িয়ে চলুন এবং বাইক চালানোর সময় আপনার কান ঢেকে রাখুন। সর্দি-কাশিকে হালকাভাবে নেবেন না, কারণ এগুলি প্রায়শই কানের সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আপনার কান খুব বেশি পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না বা খুব গভীরভাবে তুলার কুঁড়ি ঢোকাবেন না, কারণ এটি জ্বালা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন : চুল পড়া ৭ দিনেই বন্ধ হয়ে যাবে, শুধু এই জাদুকরী চুলের তেলটি লাগান।
যদি আপনার ডাক্তার কানের ড্রপ বা ওষুধ লিখে থাকেন, তাহলে সম্পূর্ণ কোর্সটি সম্পন্ন করুন। স্নানের সময় কানে জল প্রবেশ করা এড়িয়ে চলুন। যদি ব্যথা তীব্র হয়, তাহলে উষ্ণ কম্প্রেস প্রয়োগ করা, প্রচুর জল পান করা এবং বিশ্রাম নেওয়া সাহায্য করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে, কান টানা, অস্থিরতা বা ঘন ঘন কান্না সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে; এটি উপেক্ষা করবেন না। যদি ১-২ দিনের মধ্যে কোন উন্নতি না হয় অথবা মাথা ঘোরা অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ:
- কানে ধারালো জিনিস ঢোকাবেন না।
- দীর্ঘক্ষণ ইয়ারফোন ব্যবহার সীমিত করুন।
- অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখুন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি কেবল তথ্যবহুল এবং চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।