মদন তামাং হত্যা মামলায় ‘প্রমাণ-সহ’ হাইকোর্টের দ্বারস্থ সিবিআই

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: দিনটা ছিল ২১ মে ২০১০, দার্জিলিঙের ক্লাব সাইট রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন হন মদন তামাং। রক্তাক্ত অবস্থায় তার নিথর শরীর রাস্তায় পড়ে থাকার দৃশ্য এখনও অনেক রাজ্যবাসীর মনে আছে। এই ঘটনায় সেইসময় বিমল গুরুং-সহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। বিমল গুরুং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এই খুনের আগে তিনি চন্দ্রমান ধুরা এলাকায় নিজের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে এক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই মদনকে চিরতকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয় বলে অভিযোগ।

মদন তামাং হত্যা মামলায় 'প্রমাণ-সহ' হাইকোর্টের দ্বারস্থ সিবিআই

সেইসময় এই মামলার মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। সেই ঘটনায় ২২ জন কে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এর পর এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিবিআই। সিবিআইও অভিযুক্ত করে বিমলকে। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর কলকাতায় নগর দায়রা আদালত ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয় গুরুংকে। আদালতের সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন করে সিবিআই দ্বারস্থ হল কলকাতা হাইকোর্টের। সেখানে সিবিআইয়ের আইনজীবী অনির্বাণ মিত্র আদালতকে জানাই তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বিমল গুরুংয়ের ওই ঘটনায় জড়িত থাকার। তাই নিম্ন আদালতের নির্দেশ খারিজ করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

যাত্রী ভাড়ার বাইরে আয় বাড়াতে স্মার্ট কার্ডে বাড়তি জোর দিতে চাইছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ

কিন্তু এখন নিম্ন আদালত ক্লিনচিট দেওয়ার ৪ বছর কেটে যাওয়ার পর সিবিআই নতুন করে বিমল গুরুঙের বিরুদ্ধে মামলা করায় গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি হাইকোর্টে একই আবেদন করেছেন মৃত অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগ নেতা মদনের স্ত্রী ভারতী তামাংও। আজ শুক্রবারই এই দুই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলা দুটি উঠলে ব্যক্তিগত কারণের কথা উল্লেখ করে তিনি ওই মামলাগুলি শুনতে চাননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের কাছেই পুনরায় তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।

অবসরের বয়স বেধে দেওর ভাবনা CPIM এ! কি নীতি বাঁধছে সিপিএম

প্রসঙ্গত, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে পুনরায় শাসক শিবিরের কাছে বশ্যতা স্বীকার করার পর বিমল গুরুঙের বিরুদ্ধে থাকা প্রচুর মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল রাজ্য সরকার। নিম্ন আদালতগুলিতে থাকা প্রায় ৭০ টি মামলা ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও ইউএপিএ ধারায় থাকা মামলা ফেরানো হয়নি। এই অবস্থায় রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে বিমল গুরুংকে বিজেপি চাপে রাখতে চাইছে কিনা সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। তবে সিবিআই নতুন করে আদালতে এই আবেদন করায় বিমল গুরুঙের যে অস্বস্তি বাড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news