গ্রীষ্মকাল আসার সাথে সাথেই অতিরিক্ত ঘাম হওয়া একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। প্রখর সূর্যের তাপে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতা বা জলীয় অংশ বেরিয়ে যায়। ঘাম শরীরের দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে—যা প্রায়শই বিব্রতকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়। এর মূল কারণ হলো, ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়া ঘামের সংস্পর্শে এসে দুর্গন্ধ তৈরি করে। যারা বাইরে কাজ করেন কিংবা যাদের দীর্ঘ সময় রোদ ও আর্দ্র পরিবেশে কাটাতে হয়, তাদের জন্য এই সমস্যাটি বিশেষভাবে কষ্টকর হয়ে ওঠে।
শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতে অনেকেই দামী পারফিউম, ডিওডোরেন্ট এবং বডি স্প্রে-এর ওপর নির্ভর করেন। তবে, এই পণ্যগুলোর কার্যকারিতা প্রায়শই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফুরিয়ে যায়; উপরন্তু, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো ত্বকে বিরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করতে পারে। আপনিও যদি শরীরের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে চান, তবে কেবল পারফিউম বা ডিওডোরেন্টের ওপর নির্ভর না করে সহজ কিছু ঘরোয়া টোটকা বা প্রতিকার বেছে নিতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেই প্রতিকারগুলো কি কি।
স্নানের জলে লেবুর রস মেশান
স্নানের জলে লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায়। লেবুর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই যে ব্যাকটেরিয়া-নাশক (antibacterial) গুণাবলি থাকে, তা শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলোকে ধ্বংস করতে সহায়তা করে। তাছাড়া, এটি ত্বককে সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে এবং সারাদিন আপনাকে ফুরফুরে অনুভূতি দেয়।
গোলাপ জলও হতে পারে দারুণ সহায়ক
শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে গোলাপ জলও একটি চমৎকার সহায়ক উপাদান। পাশাপাশি, এটি ত্বকে এক ধরণের স্নিগ্ধ ও শীতল অনুভূতি প্রদান করে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো—স্নানের জলে সামান্য পরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে নিয়ে স্বাভাবিকভাবে স্নান সেরে নেওয়া। এর ফলে আপনি সারাদিন ধরে সতেজ এবং সুবাসিত অনুভূতি পাবেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, যাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল (sensitive skin), তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ ও উপযুক্ত বিকল্প।
তালিকায় রয়েছে ফিটকিরিও (Alum)
ঘামের কারণে সৃষ্ট শরীরের দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে ফিটকিরিও (Alum) একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রতিকার। মূলত, ফিটকিরির মধ্যে রয়েছে জীবাণু-নাশক বা অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলি, যা ঘামজনিত দুর্গন্ধকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। আপনি আপনার স্নানের জলে ফিটকিরির একটি ছোট টুকরো যোগ করতে পারেন, অথবা ফিটকিরি দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এটি শরীরের লোমকূপগুলো পরিষ্কার করার এবং ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করার মাধ্যমে কাজ করে।
আরও পড়ুন : দুর্বল ফুসফুস কীভাবে শক্তিশালী করবেন? একজন বিশেষজ্ঞের কাছে জানুন
বেকিং সোডার ব্যবহার
বেকিং সোডা শরীরের pH-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করে। স্নান করার আগে আপনার স্নানের জলে কেবল এক চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। এটি ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ অনুভূতি দেয়।
নিম পাতা দেয় স্বস্তি
নিমে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক-নাশক গুণাবলি; আর এ কারণেই ঘামের কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ দূর করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। আপনি নিম পাতা ফুটিয়ে নিতে পারেন, সেই জল ঠান্ডা হতে দিন এবং এরপর তা দিয়ে স্নান করুন। এটি কেবল ত্বককেই পরিষ্কার করে না, বরং শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতেও সহায়তা করে।