Table of Contents
দূষণ, ধুলোবালি, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং খারাপ খাদ্যাভ্যাস আজকাল ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে পরিচালিত করছে। এই সবই স্বাস্থ্য এবং ত্বক উভয়ের উপর প্রভাব ফেলে। কিছু পুরুষ এবং মহিলা ব্রণের সমস্যায় গভীরভাবে সমস্যায় পড়েন। সবাই উজ্জ্বল এবং ত্রুটিহীন ত্বক চায়, তাই তারা সঠিক ত্বকের যত্নের রুটিন অনুসরণ করে এবং সমস্যা কমাতে ব্যয়বহুল পণ্য ব্যবহার করে। তারা বিভিন্ন ঘরোয়া প্রতিকারও চেষ্টা করে। কিন্তু এর পরেও তাদের মুখের ব্রণ কমে না।
ব্রণের(Acne) পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এগুলি কমাতে, প্রথমে অন্তর্নিহিত কারণটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে, ব্রণ খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয়, যেমন তৈলাক্ত খাবার, যা সবচেয়ে বড় অপরাধী বলে বিবেচিত হয়। আসুন একজন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যাক এর সত্যতা কতটা।
বিশেষজ্ঞের মতামত কি?
শ্রী বালাজি অ্যাকশন মেডিকেল ইনস্টিটিউটের প্রধান ডায়েটিশিয়ান ডাঃ প্রিয়া পালিওয়াল ব্যাখ্যা করেছেন যে তৈলাক্ত বা ভাজা খাবার ব্রণের সরাসরি কারণ না হলেও, এগুলি আপনার শরীরে এমন পরিবর্তন ঘটায় যা ব্রণকে আরও খারাপ করতে পারে। যখন আপনি খুব বেশি তৈলাক্ত এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার খান, যেমন সামোসা, ডাম্পলিং, চাউমিন, বার্গার বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, তখন এটি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়, যার ফলে সিবাম উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত তেল ছিদ্র বন্ধ করে দেয় এবং ব্যাকটেরিয়াকে বৃদ্ধি পেতে দেয়, যা ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আরও পড়ুন : শীত কি মাইগ্রেনের ঝুঁকি বাড়ায়? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন
অনেক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে, ভাজা খাবার এবং চিনিযুক্ত খাবার ত্বককে ব্রণ-প্রবণ করে তুলতে পারে। এই খাবারগুলিতে প্রায়শই ট্রান্স-ফ্যাট এবং নিম্নমানের তেল থাকে, যা শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা মুখে ব্রণ হিসাবে প্রকাশ পায়। যদি কোনও ব্যক্তির হজমশক্তি খারাপ হয় বা ইতিমধ্যেই তৈলাক্ত ত্বক থাকে, তাহলে ভাজা খাবার ব্রণের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আপনার খাদ্যতালিকায় তাজা, কম চর্বিযুক্ত খাবার, ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। উপরন্তু, প্রয়োজনে প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করুন। এটি ত্বকের তেলের ভারসাম্য বজায় রাখবে এবং ব্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাবে।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন
ব্রণ(Acne) প্রতিরোধের জন্য ত্বকের সঠিক যত্ন অপরিহার্য। বিশেষ করে যদি আপনার ত্বক ইতিমধ্যেই তৈলাক্ত হয়, তাহলে আপনার কয়েকটি বিষয় মনে রাখা উচিত। দিনে দুবার মুখ ধোয়া উচিত। যদি আপনি আপনার ত্বকে অতিরিক্ত তেল লক্ষ্য করেন, তাহলে পরিষ্কার তুলো, টিস্যু বা তেল ব্লটিং পেপার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে ভুলবেন না। নোংরা হাতে আপনার মুখ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। আপনার ত্বকের ধরণের উপর ভিত্তি করে ময়েশ্চারাইজার বা সানস্ক্রিন লাগান। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য, জেল বা জল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তৈলাক্ত এবং মশলাদার খাবার সীমিত করুন। পরিবর্তে, একটি স্বাস্থ্যকর, সুষম খাদ্য খান।
