Table of Contents
শীতকালে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাই অনেকেই রাতে গরম থাকার জন্য হিটার জ্বালিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করেন। ঠাণ্ডা আবহাওয়া সকালে ঘুমাতে অসুবিধা এবং ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। হিটার ঘরকে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখে, তাই লোকেরা ক্রমাগত এগুলি ব্যবহার করে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই ঠাণ্ডা এড়াতে হিটার ব্যবহার করেন। তবে, হিটার জ্বালিয়ে ঘুমলে শরীরের অনেক ক্ষতি হতে পারে। আসুন আরও জেনে নেওয়া যাক।
একনাগাড়ে হিটার চালানো ঘরের আর্দ্রতা হ্রাস করে এবং বাতাস শুকিয়ে যায়। এটি ত্বক, ঠোঁট এবং গলা শুষ্ক করে দিতে পারে এবং ধীরে ধীরে জলশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে। শুষ্ক বাতাস নাক জ্বালা, চোখ চুলকানি এবং শ্বাসকষ্টের কারণও হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে হিটার ব্যবহার মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তির মতো সমস্যাগুলিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। হাঁপানি, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য এটি আরও ক্ষতিকারক হতে পারে। শুষ্ক বাতাসে ক্রমাগত ঘুমানো ঘুমের মান নষ্ট করে। তাই, শীতকালে বুদ্ধিমান এবং যথাযথভাবে হিটার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন একজন ডাক্তারের কাছ থেকে আরও শিখি।
হিটার কীভাবে ব্যবহার করবেন তা একজন ডাক্তারের কাছ থেকে শিখি?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে হিটার জ্বালিয়ে ঘুমানো কোনও ভুল না হলেও, এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের বাতাস সম্পূর্ণ শুষ্ক হওয়া রোধ করতে, হিটারের পাশে এক বালতি জল বা হিউমিডিফায়ার রাখা উপকারী। এটি বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।
আরও পড়ুন : ব্রণ এবং পিম্পলের মধ্যে পার্থক্য কি? খুব কম লোকই পার্থক্যটি জানেন।
সারা রাত পূর্ণ শক্তিতে হিটার ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন; পরিবর্তে, টাইমার বা লো মোড ব্যবহার করুন। ঘুমানোর আগে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগানো, জল খাওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং ঘরে কিছু বায়ুচলাচল বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। হাঁপানি বা অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। সঠিক এবং সুষম পদ্ধতিতে হিটার ব্যবহার করলে এর ক্ষতিকারক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
এটাও গুরুত্বপূর্ণ:
- হিটারের সাথে ঘরে এক বালতি জল রাখুন।
- ফুল মোডের পরিবর্তে লো মোড বা টাইমার ব্যবহার করুন।
- ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার লাগান।
- সারা দিন প্রচুর জল পান করুন।
- ঘরে হালকা বায়ুচলাচল বজায় রাখুন।
- শিশু এবং বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত ঘরে হিটারের ব্যবহার সীমিত করুন।
