Table of Contents
ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়, অনেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্ত, দুর্বল এবং শক্তির অভাব অনুভব করেন। এর পেছনে একটি বড় কারণ হতে পারে ভিটামিন ডি-এর অভাব। ভিটামিন ডি শরীরের হাড় মজবুত রাখতে, ইমিউন সিস্টেমকে সমর্থন করতে এবং পেশীকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। এটি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় এবং দাঁতের শক্তি বজায় রাখে। এছাড়াও এটি মেজাজ এবং শক্তির মাত্রা ভারসাম্য রাখতেও সহায়ক।
ভিটামিন ডি এর ঘাটতি অনেক কারণে হতে পারে, প্রধান কারণ হল সূর্যালোকের কম এক্সপোজার। উপরন্তু, শীতকালে বাড়ির ভিতরে বেশি সময় কাটানো, দূষণ, স্থূলতা, বার্ধক্য এবং পুষ্টির অভাবও এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। কিছু ওষুধ ভিটামিন ডি এর শোষণকেও প্রভাবিত করতে পারে। এর লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে প্রদর্শিত হয়, যেমন ক্রমাগত ক্লান্তি, পেশীতে ব্যথা, হাড়ের দুর্বলতা, ঘন ঘন সর্দি, চুল পড়া এবং মেজাজের পরিবর্তন। কিছু লোক সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় শরীরে শক্ততা অনুভব করে এবং সারা দিন অলস বোধ করে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটতি চলতে থাকলে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে এবং ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
শীতকালে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি কেন হয়? ক্রমাগত ক্লান্তি কি এর অভাবের লক্ষণ?
দিল্লির আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেছেন যে শীতকালে সূর্যের আলো দেরিতে বের হয় এবং সূর্যের আলোর তীব্রতাও কম হয়। ঠাণ্ডা এড়াতে লোকেরা বেশিরভাগ সময় বাড়ির ভিতরে থাকে, যার কারণে শরীর পর্যাপ্ত সূর্যের এক্সপোজার পায় না। ভিটামিন ডি প্রধানত সূর্যের আলো থেকে তৈরি হয়, তাই ঠাণ্ডায় এর মাত্রা দ্রুত কমতে শুরু করে। এ ছাড়া মোটা কাপড় পরা, দূষণ ও মেঘের কারণে ত্বকে সূর্যের আলো পুরোপুরি পৌঁছায় না।
আরও পড়ুন : হিটার জ্বালিয়ে ঘুমলে জলশূন্যতা হতে পারে। কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন জানুন
ডাঃ সুভাষ গিরি বলেন, অবিরাম ক্লান্তি ভিটামিন ডি-এর অভাবের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পেশী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শক্তির মাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই কারণে, ব্যক্তি সারা দিন অলসতা, ভারীতা এবং দুর্বলতা অনুভব করতে পারে। সর্দি-কাশিতে এ ধরনের উপসর্গ বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিভাবে রক্ষা করবেন ?
- সকালের হালকা সূর্যের আলোতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট বসুন।
- আপনার খাদ্যতালিকায় ডিম, দুধ, দই, মাশরুম এবং ফোর্টিফাইড খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।
- প্রয়োজনে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্টের জন্য আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- শিশু এবং বয়স্কদের সূর্যস্নানের অভ্যাসের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিন।
