ওয়েব ডেস্ক: বড়সড় পাচারের চক্রান্তের পর্দা ফাঁস করল গরুমারা বনবিভাগ। বন-কর্মীদের তৎপরতায় উদ্ধার হল বিষধর সাপের বিষ। জলপাইগুড়ি থেকে চিনে পাচার করা হচ্ছিল। পাচারের আগে উদ্ধার হয় প্রায় ১৩ কোটি টাকার কোবরা ভেনাম।
সূত্রের খবর, বনাধিকারিকদের কাছে খবর ছিল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহর সংলগ্ন ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সাপের বিষ পাচার করার পরিকল্পনা রয়েছে। খবর পাওর পর গরুমারা বন্যপ্রাণী শাখার ডিএফও অংশু যাদবের নির্দেশে এডিএফও জন্মেজয় পাল, গরুমারা সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার অয়ন চক্রবর্তী, সুদীপ দে, জীবন বিশ্বকর্মা, তন্ময় চক্রবর্তী, অতনু সরকার, গৌতম রায়-সহ একটি বিশাল দল জাতীয় সড়কে রাতভর টহল দেওয়া শুরু করে। শুক্রবার আচমকাই একটি সন্দেহভাজন বিএমডব্লু গাড়ি থেকে কয়েকজনকে নামতে দেখা যায়। উল্টো দিকে এক ব্যক্তিকে দেখা যায় হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে আসতে।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নামে ৫৬ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ শান্তিনিকেতনের গোয়ালপাড়া গ্রামে
এরপরই ওই গাড়িটির দিকে ধেয়ে যান বনাধিকারিকরা। যদিও আগাম বিপদ বুঝে গাড়িতে চেপে চম্পট দেন বাকিরা। গাড়িটি শিলিগুড়ির দিকে রওনা দেয়। কিন্তু ব্যাগ হাতে এগিয়ে আসা ওই ব্যক্তি ধরা পড়ে যান। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোবরার বিষ পাচারে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম সেলিম আখতার মণ্ডল। তিনি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা। এই বিষ চিনে পাচার করার ছক কষেছিলেন পাচারকারীরা। ভারত থেকে নেপাল, বাংলাদেশ ঘুরে এই বিষ চিনে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
দেশে মহিলাদের প্রতি অপরাধে প্রথম স্থানে উত্তরপ্রদেশ, দ্বিতীয় স্থানে দিল্লী
সাপের বিষের পরিমাণ ৬ পাউন্ড। তিনটি বেলজিয়াম কাচের জারে তিনটি আকারে রাখা ছিল বিষ। এই সাপের বিষের জার ফ্রান্সের। চোরাপথে বাংলাদেশ থেকে মালদা সীমান্ত হয়ে ভারতে ঢুকেছিল। মালদা থেকে সেই বিষের জার সংগ্রহ করেই চিনে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল ধৃত যুবক।
ধৃতকে শুক্রবার তোলা হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে। তদন্তের স্বার্থে ৬ দিনের হেফাজতে নিয়েছে গরুমারা বনবিভাগের বন্যপ্রানী শাখা। এই বিষের জার পরীক্ষার জন্য হায়দ্রাবাদের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে। এর আগেও একইভাবে ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর সাপের বিষ ভরা বেলজিয়াম জার উদ্ধার হয়েছে।
