দুধ পান করার পর পেটে গ্যাস হয় কেন? জানুন এর কারণ এবং কাদের দুধ পান করা উচিত নয়

স্বাস্থ্যের জন্য দুধ পান করা অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। কিন্তু দুধ পান করার পর কেউ কেউ পেটের সমস্যায় ভোগেন।

2 Min Read

স্বাস্থ্যের জন্য দুধ পান করা অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়। আমরা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে দুধ রাখি। কারণ নিয়মিত দুধ পান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং হাড় মজবুত করে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দুধ পান অ্যাসিডিটিসহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এই কারণেই দুধকে শক্তি ও পুষ্টির এক চমৎকার উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে, অনেকেই দুধ পান করার পর পেটের সমস্যায় ভোগেন। তখন প্রশ্ন জাগে—দুধ পান করলে কেন গ্যাস হয় এবং কাদের এটি এড়িয়ে চলা উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

দুধ পান করলে কেন গ্যাস হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুধে ‘ল্যাকটোজ’ নামক এক ধরণের প্রাকৃতিক শর্করা থাকে। এটি হজম করার জন্য শরীরের ‘ল্যাকটেজ’ নামক একটি এনজাইমের প্রয়োজন হয়, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে তৈরি হয়। যখন শরীরে এই এনজাইমের পরিমাণ কম থাকে, তখন ল্যাকটোজ সঠিকভাবে শোষিত হতে পারে না। যদি কেউ দুধ কিংবা দুধজাত পণ্য—যেমন: পনির বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর পেটের অস্বস্তিতে ভোগেন, তবে তা ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার লক্ষণ হতে পারে। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—পেটে গ্যাস বা ফাঁপা ভাব এবং পেট ভরা ভরা লাগা, পেটে ব্যথা বা মোচড় দেওয়া, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া এবং বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। সাধারণত দুধ পান করার ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুন : নারীদের চুল পড়া কি কোনো গোপন শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে? জানুন

কারা দুধ পান করে সমস্যায় পড়ার ঝুঁকিতে বেশি থাকেন?

দুধ পান করার পর সবারই যে এই সমস্যাগুলো হয়, তা নয়; তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যাদের হজমশক্তি দুর্বল, কিংবা যারা আগে থেকেই গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা পেটের সমস্যায় ভুগছেন—তাদের ক্ষেত্রে দুধ হজম করা কঠিন হতে পারে। এছাড়া, বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকেরই দুধ হজম করার ক্ষমতা কমে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণেও দুধ পান করার পর পেটের অস্বস্তি বা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

Share This Article