যষ্টিমধু গলার ব্যথা উপশম করা থেকে শুরু করে মুখের উজ্জ্বলতাও বাড়ায়, জেনে নিন এর গুনাগুণ

আয়ুর্বেদে এমন অসংখ্য ভেষজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এমনই একটি ভেষজ হলো যষ্টিমধু (Mulethi)। এটি কেবল গলার ব্যথা সারাতেই সাহায্য করে না, বরং মুখের ত্বকে এক প্রাকৃতিক দীপ্তিও এনে দেয়। ত্বকের যত্নে এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা জানতে লেখাটি পড়তে থাকুন।

5 Min Read

ত্বকের যত্নের কথা উঠলে, প্রাকৃতিক উপাদানগুলো প্রায়শই চমৎকার ফলাফল প্রদান করে। বিশেষ করে ভেষজ উপাদানগুলো এক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। ঠিক এই কারণেই, অনেক নামীদামি বিউটি ব্র্যান্ড তাদের প্রসাধনী পণ্যগুলোতে ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে থাকে। তবে, এই বাণিজ্যিক পণ্যগুলোতে অনেক সময় কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক সংরক্ষক মেশানো থাকে। আপনি যদি কোনো ভেষজকে তার বিশুদ্ধতম রূপে ব্যবহার করতে চান, তবে বাড়িতে বসেই নিজস্ব ঘরোয়া টোটকা বা প্যাক তৈরি করে নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অধিকাংশ মানুষই গলার ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে যষ্টিমধু (Glycyrrhiza glabra) চিবিয়ে খেয়ে থাকেন; কিন্তু আপনি কি জানেন যে, এটি আপনার ত্বকের জন্যও জাদুর মতো কাজ করতে পারে?

আপনি যদি প্রতিনিয়ত মুখের দাগছোপ, রোদে পোড়া ভাব, ত্বকের কালচে হয়ে যাওয়া বা মলিন ত্বকের মতো সমস্যাগুলোর সাথে লড়াই করে থাকেন, তবে যেখানে-সেখানে খুঁজে পাওয়া সব ধরনের ঘরোয়া টোটকা বা ‘DIY হ্যাক’ অন্ধের মতো প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন। একইভাবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপারিশকৃত সব ধরনের প্রসাধনী পণ্য কিনে ব্যবহার করা থেকেও নিজেকে বিরত রাখুন। সাধারণ শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে ত্বকের যত্ন—সবক্ষেত্রেই আপনি আয়ুর্বেদের ওপর আস্থা রাখতে পারেন; কারণ বৈদিক যুগ থেকেই আয়ুর্বেদ ভারতীয় সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। চলুন, এবার যষ্টিমধুর ত্বকের যত্নে কি কি উপকারিতা রয়েছে তা জেনে নেওয়া যাক এবং এটি কার্যকর ভাবে ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিটি শিখে নেওয়া যাক।

ত্বকের যত্নে যষ্টিমধু

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন (National Library of Medicine) কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, যষ্টিমধু আপনার ত্বকের বর্ণ বা উজ্জ্বলতা উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত করতে সক্ষম। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, যষ্টিমধুর নির্যাস ত্বকের মেলানিন বা রঞ্জক পদার্থের মাত্রা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মেলানিন হলো সেই রঞ্জক পদার্থ যা ত্বকের স্বাভাবিক বর্ণ বা গায়ের রং নির্ধারণ করে; ত্বকে মেলানিনের মাত্রা যত বেশি হয়, গায়ের রং ততটাই কালচে বা গাঢ় দেখায়। ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন বা অসম রঞ্জকতার সমস্যা কমাতেও যষ্টিমধু বেশ সহায়ক, যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে দাগহীন ও উজ্জ্বল। এছাড়া যষ্টিমধুর মধ্যে অ্যালার্জি-প্রতিরোধী এবং প্রদাহ-নাশক (anti-inflammatory) গুণাবলিও বিদ্যমান, যা ত্বকের ফোলাভাব বা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

যষ্টিমধু (Mulethi) কীভাবে ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি আপনার ত্বকের যত্নের রুটিনে যষ্টিমধুকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, তবে একটি ফেস প্যাক তৈরি করে তা মুখে প্রয়োগ করার মাধ্যমেই আপনি তা করতে পারেন। এই উদ্দেশ্যে, বাজার থেকে সরাসরি যষ্টিমধুর গুঁড়ো বা পাউডার কেনা থেকে বিরত থাকুন; কারণ বাজারে প্রাপ্ত গুঁড়োতে ভেজাল থাকার প্রবল ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি আস্ত যষ্টিমধুর শিকড় বা কাণ্ড কিনে আনেন। এরপর সেগুলোকে ১ থেকে ২ দিন কড়া রোদে শুকিয়ে নিন; এরপর সেগুলোকে গুঁড়ো করে ব্লেন্ডারে দিয়ে মিহি পাউডারে পরিণত করুন। এই পাউডারটি একটি বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

ফেস প্যাক তৈরির পদ্ধতি

আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত যষ্টিমধুর পাউডার থেকে ১ বা ২ টেবিল চামচ নিন। এর সাথে সামান্য দই মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। আপনার মুখে যদি খুব বেশি গাঢ় দাগ বা ছোপ থাকে, তবে মিশ্রণটিতে ১ বা ২ টেবিল চামচ টমেটোর রসও যোগ করতে পারেন। এই সহজ ধাপগুলো অনুসরণ করলেই আপনার যষ্টিমধুর ফেস প্যাকটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। যষ্টিমধুর মতোই, দই-ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

আরও পড়ুন : পার্লারে যাওয়ার সময় নেই? এই মাস্কটি দিয়ে ঘরে বসেই মুখের লোম দূর করুন

ফেস প্যাকটি কীভাবে ব্যবহার করবেন?

এই ফেস প্যাকটি আপনার পুরো মুখ এবং ঘাড়ের ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। এটি অন্তত ২০ মিনিট বা যতক্ষণ না এটি প্রায় ৯০ শতাংশ শুকিয়ে যায়, ততক্ষণ মুখে রেখে দিন। এরপর একটি ভেজা স্পঞ্জ দিয়ে মুখ মুছে নিন অথবা সরাসরি সাধারণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শুধু খেয়াল রাখবেন যেন ফেস প্যাকটি ব্যবহারের ঠিক পরেই মুখে কোনো ধরণের সাবান ব্যবহার না করেন।

ফেস প্যাক ব্যবহারের উপযুক্ত সময়

আপনি আপনার রাতের ত্বকের যত্ন বা স্কিনকেয়ার রুটিনে এই ফেস প্যাকটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন। ফেস প্যাকটি লাগানো এবং ধুয়ে ফেলার পর, আপনি আপনার রুটিনের বাকি ধাপগুলো—যেমন টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগানো—অনুসরণ করতে পারেন। আপনি সপ্তাহে তিনবার এই ফেস প্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন (অর্থাৎ, প্রতিবার ব্যবহারের মাঝে অন্তত একদিনের বিরতি দিয়ে)।

Share This Article