গ্রীষ্মকালে শরীর আর্দ্র রাখতে কেবল ডাবের জল পান করাই যথেষ্ট? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন আসল সত্য

গ্রীষ্মকালে শরীর আর্দ্র রাখতে কেবল ডাবের জল পান করাই যথেষ্ট? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন আসল সত্য

5 Min Read

আমাদের শরীরকে আর্দ্র বা হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু শরীরে জলের চাহিদা মেটাতে কি পুরোপুরি এর ওপরই নির্ভর করাটা কি সত্যিই বুদ্ধিমানের কাজ? ডাবের জল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ কিছু ভ্রান্ত ধারণা বা মিথ প্রচলিত আছে। এমনই একটি ভ্রান্ত ধারণা হলো—গ্রীষ্মকালে ডাবের জল ছাড়া অন্য কিছু পান না করে কেবল এটিই পান করা কি শরীরের তরল বা জলের স্তর পুরোপুরি পূরণ করার জন্য যথেষ্ট? যদিও ডাবের জলে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে, তবুও গ্রীষ্মকালে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে এটিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হলো এতে থাকা ইলেকট্রোলাইটসমূহ। বস্তুত, জোলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন রোধ করতে শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডাবের জল পটাশিয়ামেও সমৃদ্ধ। তাছাড়া, এতে আরও অনেক উপকারী উপাদান বিদ্যমান। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব যে, গ্রীষ্মকালে শরীরে তরলের ঘাটতি মেটাতে ডাবের জলের ওপর একচেটিয়াভাবে নির্ভর করাটা কতটা যুক্তিযুক্ত।

ডাবের জলের উপাদানসমূহ | ডাবের জলের পুষ্টিগুণ

ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ছাড়াও, ডাবের জলে প্রাকৃতিক ভাবেই চিনি এবং ক্যালোরির পরিমাণ বেশ কম থাকে। ভিটামিনের প্রসঙ্গে বলতে গেলে, এটি ভিটামিন ‘সি’-এর একটি চমৎকার উৎস। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী রাখতে এই ভিটামিনটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। গ্রীষ্মের মাসগুলোতে শরীর এবং ত্বক—উভয়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্যই ভিটামিন ‘সি’ অপরিহার্য। আর ঠিক এই কারণেই, গ্রীষ্মকালে ডাবের জল পান করাকে অন্যতম সেরা অভ্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এই প্রাকৃতিক পানীয়টির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা ইলেকট্রোলাইটসমূহ; এতে পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই ইলেকট্রোলাইট গুলোর সহায়তায় শরীর কেবল আর্দ্রই থাকে না, বরং স্নায়ু ও পেশীর কার্যকারিতা সচল রাখতেও সহায়তা পায় এবং একই সাথে শরীরের পিএইচ (pH) স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।

গ্রীষ্মকালে কি কেবল ডাবের জল পান করাই যথেষ্ট?

ডাবের জল নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার পানীয়, এবং গ্রীষ্মের তীব্র তাপ মোকাবিলা করতে কেউ কেউ পুরোপুরি এর ওপরই নির্ভর করে থাকেন। ডাবের জলকে একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করাটা অবশ্যই উপকারী; তবে শরীরে জলের চাহিদা মেটাতে বা হাইড্রেটেড থাকতে কেবল এর ওপরই একচেটিয়াভাবে নির্ভর করাটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া উল্লেখ করেন যে, গ্রীষ্মকালে এক গ্লাস ডাবের জল সারা দিনের জন্য শরীরের আর্দ্রতার চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে, ডাবের জল একটি চমৎকার প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় হিসেবে কাজ করে, যা শরীরের জন্য অপরিহার্য পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং তরল সরবরাহ করে।

তবে, সারা দিনে শরীরের ২ থেকে ৩ লিটার জলের প্রয়োজন থেকেই যায়। ডাবের জলকে সাধারণ জলের বিকল্প হিসেবে না দেখে, এটিকে বরং শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার রুটিনের একটি পরিপূরক হিসেবে গণ্য করা উচিত। অনেকেই ভুলবশত ডাবের জলকে সাধারণ জলের সম্পূর্ণ বিকল্প হিসেবে মনে করেন—যা একটি বড় ভুল হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যদি কেউ সারা দিন কেবল ডাবের জলের ওপরই নির্ভর করে থাকেন, তবে তার শরীরের সামগ্রিক তরল গ্রহণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাধারণ জল পান করা এবং মাঝে মাঝে এর পাশাপাশি ডাবের জল বা লেবুর শরবত পান করা।

আরও পড়ুন : চুলের সকল সমস্যার সমাধান, সরিষার তেল এবং মেথি

জলশূন্যতা রোধে এই বিষয়গুলো মনে রাখুন

শরীরে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় রাখতে, জলের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শসা, টমেটো, খরমুজ, তরমুজ এবং গ্রীষ্মকালীন অন্যান্য মৌসুমি ফল ও সবজি শরীরের তরল ক্ষয় রোধ করতে সহায়তা করে।

বর্তমানে আমরা মার্চ মাসে অবস্থান করছি এবং আগামী মাসগুলোতে তীব্র তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সময়ে, শরীরকে পর্যাপ্ত ভাবে আর্দ্র রাখতে এবং সুস্থ রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। চা ও কফির মতো পানীয়গুলোর সেবন যথাসম্ভব কমিয়ে আনা উচিত। সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া জানান যে, এই পানীয়গুলোতে ক্যাফেইন থাকার কারণে এগুলো শরীর থেকে তরল বা জলীয় অংশ বের করে দেয়।

রাস্তার বিক্রেতাদের কাছ থেকে বা খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া আখের রস পান করা থেকে বিরত থাকুন; কারণ যেভাবে সাধারণত এই রস তৈরি ও পরিবেশন করা হয়, তাতে কলেরা বা ডায়রিয়ার মতো জলবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলের রস তৈরি করে পান করার পরিবর্তে, সরাসরি আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।

স্নানের অভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয়; যেমন—স্নানের জলে নিম পাতা বা অন্যান্য ভেষজ উপাদান মিশিয়ে নিতে পারেন। মনে করা হয় যে, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এই উপাদানগুলোও বেশ কার্যকর।

Share This Article