গ্রীষ্মকালে ত্বককে দ্বিমুখী আক্রমণের মোকাবিলা করতে হয়। একদিকে থাকে তীব্র রোদ ও গরম; অন্যদিকে, ধুলোবালি ও ময়লা জমে ত্বক তার উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে। তাই প্রায়ই বলা হয় যে, গ্রীষ্মকালে ত্বকের জন্য বাড়তি যত্নের প্রয়োজন। কড়া রোদ বা তীব্র গরমের মধ্যে বাইরে বের হলে ত্বকে ‘সান ট্যান’ বা রোদে পোড়া দাগ দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের এই রোদে পোড়া দাগ যদি সময়মতো দূর করা না হয়, তবে তা একগুঁয়ে ও সহজে দূর না হওয়া ‘পিগমেন্টেশন’ বা ছোপ ছোপ দাগে পরিণত হতে পারে। যদিও বাজারে ট্যান দূর করার জন্য অনেক পণ্য পাওয়া যায়, তবে সেগুলোতে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার ঝুঁকি প্রায়ই থেকে যায়। তাছাড়া, অধিকাংশ মানুষই ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে দিনের বেলার রুটিনের ওপর বেশি জোর দিলেও, রাতের বেলার যত্নের বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষা করে থাকেন।
সাধারণত মনে করা হয় যে, রাতের বেলায় ত্বকের যত্ন নিলে ত্বক নিজেকে মেরামত ও পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ পায়। এও বলা হয়ে থাকে যে, রাতের সময়টাই হলো সেই মুহূর্ত, যখন আমাদের ত্বক সত্যিকার অর্থে বিশ্রাম নিতে পারে এবং তার হারানো সতেজতা ফিরে পায়। এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের এমন কিছু বিশেষ ফেস মাস্ক সম্পর্কে জানাব, যা রাতে ত্বকে ব্যবহার করলে আপনি পরের দিন সকালে সতেজ ও প্রাণবন্ত অনুভব করে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক…
গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের রুটিন
গ্রীষ্মকালে ত্বকের যত্নের রুটিন নিয়ে আলোচনার সময়, শরীরের ‘হাইড্রেশন’ বা পর্যাপ্ত জলীয়ভাব বজায় রাখাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া ব্যাখ্যা করেন যে, গরম আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয়—যা একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে, শরীরের অভ্যন্তরীণ জলীয়ভাব বা হাইড্রেশনের মাত্রা ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। যদি এই বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ না দেওয়া হয়, তবে শরীরে জলশূন্যতা বা ‘ডিহাইড্রেশন’ দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, এর প্রভাব কেবল আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরই ক্ষতিকর নয়, বরং এর ফলে ত্বকও নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করার জন্য শসা, টমেটো, তরমুজ, ফুটি এবং অন্যান্য জলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক, ত্বককে আর্দ্র ও সতেজ রাখতে আপনি কোন কোন ফেস মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।
গ্রীষ্মকালে ত্বকের যত্নের জন্য সেরা কিছু ফেস মাস্ক
অ্যালোভেরা জেল মাস্ক: এটি এমন একটি উপাদান যা সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযুক্ত। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে অ্যালোভেরা জেল লাগান এবং আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে এটি ধুয়ে ফেলুন এবং এরপর একটি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে এটি সারা রাত ত্বকে লাগিয়েও রাখতে পারেন। এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা জীবাণুনাশক গুণের কারণে এটি ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন : ত্বকের বারবার সংক্রমণ কোন রোগের ইঙ্গিত দেয়? জানুন এর কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে
চাল ও মধু: ভিজিয়ে রাখা চাল বেটে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং এর সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে নিন। রাতে ঘুমানোর আগে এই ফেস মাস্কটি ত্বকে লাগান এবং ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর আপনার পছন্দের কোনো ক্রিম দিয়ে ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে নিন। চাল ত্বককে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় করে তুলতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মধু ত্বকের প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়। সব মিলিয়ে, ত্বকের যত্নে এই দুটি উপাদানের সংমিশ্রণ এক কথায় আশীর্বাদের সমান।
কাঁচা দুধের মাস্ক: দুধে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। একটি বাটিতে কিছুটা কাঁচা দুধ নিন, তাতে একটি তুলার প্যাড ডুবিয়ে নিন এবং সেটি দিয়ে ত্বকে দুধ লাগান। পুরো মুখে দুধ লাগানো হয়ে গেলে, শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পুনরায় লাগাতে থাকুন। আপনি চাইলে এটি সারা রাত মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন। কাঁচা দুধের এই ঘরোয়া টোটকাটি রোদে পোড়া দাগ (ট্যানিং) কমাতে এবং ত্বকে এক ধরণের প্রাকৃতিক আভা ফুটিয়ে তুলতে সহায়তা করে। এই প্রতিকারগুলোর যেকোনোটি ব্যবহার করার আগে, অবশ্যই ত্বকের একটি ছোট অংশে পরীক্ষা বা ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেবেন। এছাড়া, যেকোনো ঘরোয়া প্রতিকার বা টোটকা ব্যবহারের আগে কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সর্বদা বাঞ্ছনীয়।