আজকাল অনেক মানুষের মধ্যেই কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সমস্যাটি প্রায়শই ভুল খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত। মানুষ প্রায়শই প্রতিদিন এমন কিছু খাবার গ্রহণ করে যা শরীরে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ উপাদানের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, আর এর ফলেই কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যদিও শুরুর দিকে এর লক্ষণগুলো মৃদু হতে পারে, তবে সময়ের সাথে সাথে এই সমস্যাটি তীব্র ব্যথা এবং অন্যান্য জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।
কিডনিতে পাথরের লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে পিঠের পেছনের অংশে বা পেটের নিচের দিকে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং মাঝেমধ্যে বমি বমি ভাব। অনেকেই এই সতর্কবার্তাগুলোকে তুচ্ছ মনে করে উপেক্ষা করেন, যা শেষ পর্যন্ত সমস্যাটিকে আরও জটিল করে তোলে। তাই, নিজের খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার প্রতি সময়মতো মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার মাধ্যমে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে, এটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে—কোন খাবারগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়ে এবং তা প্রতিরোধের জন্য কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
কোন খাবারগুলো কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে?
লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ও প্রধান ডা. এল.এইচ. ঘোটেকর ব্যাখ্যা করেন যে, অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং উচ্চমাত্রার চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু খাবারে ‘অক্সালেট’ (oxalates) নামক উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে; এই উপাদানগুলো শরীরে জমা হয়ে পাথরের সৃষ্টি করতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণে ‘জাঙ্ক ফুড’ বা ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করাও এই সমস্যাটিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কেউ কেউ প্রচুর পরিমাণে কোমল পানীয় বা বোতলজাত পানীয় গ্রহণ করেন, যা কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান নিশ্চিত করাকে কিডনির সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য হিসেবে গণ্য করা হয়।
কিডনির সুস্বাস্থ্যের জন্য কি খাবেন?
কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া, তাজা ফলমূল, সবুজ শাকসবজি এবং হালকা খাবার গ্রহণ করাও উপকারী হতে পারে। ডাবের জল, লেবুর শরবত এবং আঁশযুক্ত খাবারও শরীরকে সতেজ ও জলশূন্যতামুক্ত (hydrated) রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত লবণ এবং বাইরের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণের মাধ্যমে কিডনির সুস্বাস্থ্য কার্যকরভাবে বজায় রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুন : নারকেলের মালাই কি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী? জেনে নিন এর পুষ্টিগুণ
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি আপনি পেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয়, অথবা প্রস্রাবের সাথে রক্তদেখতে পান—তবে অবিলম্বে একজন চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এছাড়া বারবার বমি হওয়া, জ্বর কিংবা প্রস্রাব করতে অসুবিধা হওয়ার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। যথাসময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে ওঠা প্রতিরোধ করা সম্ভব।