বর্তমান বিশ্বে উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার উদ্বেগজনক গতিতে বাড়ছে। এই দুটি এমন শারীরিক অবস্থা যা দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। এই দুটি রোগের বিরূপ প্রভাবের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে কিডনি অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঙ্গ। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময়ই সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না; ফলে অনেকেই সঠিক সময়ে সমস্যাটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন।
কিডনি শরীরের বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ এবং শরীরের তরল বা জলের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পাদন করে। যখন কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে, তখন এর প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই কিডনির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত রোগীরা তীব্র কোনো শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করেন না। তাই, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস ঠিক কীভাবে কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে এবং কেন সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য—তা সঠিকভাবে বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস কীভাবে কিডনির ক্ষতি করে?
যদি উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে কিডনির অভ্যন্তরে থাকা সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে কিডনির রক্ত পরিস্রাবণ বা ছাঁকনি ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে। কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ডায়াবেটিসকে গণ্য করা হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা এবং রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পেলে তা কিডনির ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি করে।
সময়ের সাথে সাথে, এই অবস্থাটি ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে রূপ নিতে পারে। যদি সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা না হয়, তবে শেষ পর্যন্ত রোগীর ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হতে পারে। তাই, এই দুটি শারীরিক অবস্থাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা একান্ত অপরিহার্য।
কিডনির ক্ষতির ইঙ্গিতবাহী লক্ষণগুলো কী কী?
যখন কিডনির কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়, তখন পা ও মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্ষুধামন্দার মতো লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণ বা রঙের পরিবর্তনও কিডনির সমস্যার একটি নির্দেশক হতে পারে।
কারো কারো ক্ষেত্রে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, শ্বাসকষ্ট অথবা শরীরে এক ধরনের ভারী ভাব অনুভূত হতে পারে। যদি এ ধরনের লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
আরও পড়ুন : কোন খাবারগুলো কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে? একজন চিকিৎসকের কাছে জানুন
কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে কী করা যেতে পারে?
কিডনিকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন, লবণ ও চিনির গ্রহণ সীমিত করুন এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
এছাড়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করান। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করাও অত্যন্ত জরুরি।