খুব রোগা বা কম ওজনের মানুষের কি ফ্যাটি লিভার হতে পারে? জানুন

ইদানীং ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। এটি প্রায়শই স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সাথে সম্পর্কিত। তাই, কম ওজনের বা চিকন মানুষদেরও ফ্যাটি লিভার হতে পারে কি না, তা জানা জরুরি।

3 Min Read

ফ্যাটি লিভারের সাথে স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করেন যে, কেবল অতিরিক্ত ওজনের মানুষদেরই এই সমস্যা হয়। কিন্তু লিভারে চর্বি জমার পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে এবং এই সমস্যাটি কেবল শরীরের ওজনের ওপর নির্ভর করে না। স্বাভাবিক বা কম ওজনের মানুষদেরও ফ্যাটি লিভার হতে পারে; এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় “লিন ফ্যাটি লিভার” (Lean Fatty Liver) বা “লিন এনএএফএলডি” (Lean NAFLD)।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন‘-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভার কেবল স্থূলতার সাথে সম্পর্কিত কোনো সমস্যা নয়; স্বাভাবিক বা কম ওজনের মানুষদের মধ্যেও এটি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এসব মানুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলো স্পষ্ট হয় না, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে রোগটি শনাক্তই হয় না। এ কারণেই কেবল ওজনের ওপর ভিত্তি করে লিভারের স্বাস্থ্য বিচার করা সঠিক বলে মনে করা হয় না। কম ওজনের মানুষদের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার কীভাবে প্রভাব ফেলে, এর কারণ ও লক্ষণগুলো কি এবং এটি প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে—সেসব বিষয় বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কম ওজনের মানুষদের শরীরে ফ্যাটি লিভার কীভাবে প্রভাব ফেলে?

ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত কম ওজনের মানুষদের লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করে। শুরুতে হয়তো কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বলতা বা পেটের ওপরের অংশে ভারী ভাব অনুভূত হতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে। অবস্থা গুরুতর হলে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিসের মতো জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কম ওজনের মানুষদের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কম মনে করে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক পরিচর্যা লিভারের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, চিকিৎসকের মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, এমনকি শরীরের ওজন স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকলেও।

কম ওজনের মানুষদের ফ্যাটি লিভারের কারণ ও লক্ষণগুলো কি কি?

কম ওজনের মানুষদের ফ্যাটি লিভারের পেছনে যেসব বিষয় ভূমিকা রাখে তার মধ্যে রয়েছে—বংশগতি, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং বিপাকীয় বা মেটাবলিক সমস্যা। লক্ষণ বা উপসর্গগুলোর কথা বলতে গেলে, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়শই কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটের ওপরের ডানদিকে ভারী ভাব, ক্ষুধামন্দা বা সামগ্রিক অস্বস্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সাধারণত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এটি শনাক্ত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন : অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে? জানুন

ফ্যাটি লিভার কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের পরিমাণ সীমিত করা অত্যন্ত জরুরি। শরীরের ওজন স্বাভাবিক থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

পাশাপাশি, রক্তে শর্করা (সুগার), কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয়মূলক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ফ্যাটি লিভার সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং জটিলতার ঝুঁকি কমে।

Share This Article