গর্ভাবস্থার পরে যদি আপনার হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়, তাহলে কি এটি অপুষ্টির লক্ষণ নাকি আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত, জানুন

3 Min Read
গর্ভাবস্থার পরে যদি আপনার হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়, তাহলে কি এটি অপুষ্টির লক্ষণ নাকি আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত, জানুন
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

গর্ভাবস্থার পরে অনেক মহিলা হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করেন। এই ব্যথা সাধারণ ক্লান্তি, অপুষ্টি বা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। প্রসবের পরে হরমোনের পরিবর্তন, রক্তক্ষরণ এবং ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। অতএব, যদি ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে বা ফুলে যায়, তবে এটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থার পরে হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথা অপুষ্টির লক্ষণ নাকি আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত।

গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের সময় একজন মহিলার শরীরে অনেক শারীরিক এবং হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। ইস্ট্রোজেন, হাড়কে শক্তিশালী করে এমন হরমোন, প্রসবের পরে হ্রাস পায়, যা হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস করতে পারে। স্তন্যপান করানোর ফলে শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ক্যালসিয়ামও কমে যায়। যদি খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এই ক্ষতি পূরণ না করা হয়, তাহলে হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। তাছাড়া, গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধি জয়েন্টগুলিতে চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে ব্যথা এবং ফোলাভাব হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ঘুমের অভাব এবং শারীরিক কার্যকলাপ হ্রাসও পুনরুদ্ধারের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত কারণগুলি শরীরের শক্তি এবং হাড়ের শক্তি উভয়কেই প্রভাবিত করে।

গর্ভাবস্থার পরে হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথার কারণ কি?

আরএমএল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সালোনি চাড্ডা ব্যাখ্যা করেন যে প্রসবের পরে হাড় এবং জয়েন্টে ব্যথার দুটি প্রধান কারণ হতে পারে পুষ্টির ঘাটতি বা আর্থ্রাইটিসের সূত্রপাত। একজন মহিলার ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, আয়রন এবং প্রোটিনের অভাব থাকলে পেশী এবং হাড় উভয়কেই দুর্বল করে দিতে পারে। এটি সামান্য নড়াচড়া করলেও ব্যথা বা ক্লান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত পুষ্টির ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সমাধান হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : কোন তেল চুল দ্রুত বৃদ্ধি করে? এইভাবে ঘরে তৈরি করুন চুল বৃদ্ধির তেল

তবে, যদি ব্যথা অব্যাহত থাকে, জয়েন্টগুলি ফুলে যায় বা শক্ত হয়ে যায় এবং ঘুম থেকে ওঠার পরে শরীর শক্ত হয়ে যায়, তবে এটি প্রসবোত্তর আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। এই অবস্থা শরীরে প্রদাহ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে হয়। ডাক্তাররা সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য রক্ত পরীক্ষা বা এক্স-রে করার পরামর্শ দেন। সময়মত চিকিৎসা এটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

এই বিষয়গুলি খেয়াল রাখুন:

  • পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন সূর্যের আলোতে একটু বসুন।
  • আপনার খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, পনির, সবুজ শাকসবজি এবং শুকনো ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
  • জয়েন্ট শক্ত হওয়া রোধ করতে হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করুন।
  • যদি ব্যথা বা ফোলাভাব দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
  • পর্যাপ্ত ঘুম এবং বিশ্রাম নিন, কারণ শরীরের সুস্থ হওয়ার জন্য সময়ের প্রয়োজন।

Disclaimer: এই নিবন্ধটি কেবল তথ্যবহুল এবং চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article