ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা কেন হয়? এটি প্রতিরোধের উপায় কি জানুন

অনেকেই ব্যায়ামের পর প্রায়শই পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন, যা দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো করাকেও কঠিন করে তুলতে পারে। তাই, এই ব্যথার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায়গুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। চলুন, বিষয়টি একটু বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

5 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

যদিও অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তবুও এর পরে পেশিতে ব্যথা অনুভব করা একটি সাধারণ ঘটনা—বিশেষ করে যখন ব্যায়ামগুলো নতুন ধরনের হয় কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রমসাধ্য হয়। এই ধরনের ব্যথার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে পেশির আড়ষ্টতা, ভারী বোধ করা, সামান্য ফোলাভাব, দুর্বলতা এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা। অনেক সময় স্পর্শ করলেও ব্যথা অনুভূত হয় এবং শরীর আড়ষ্ট বা শক্ত হয়ে আছে বলে মনে হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত ব্যায়ামের ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর শুরু হয় এবং ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে; কিছু ক্ষেত্রে এটি ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্তও চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, বসা ও দাঁড়ানো কিংবা এমনকি হাত তোলা—এমন সাধারণ কাজগুলোও বেশ কষ্টসাধ্য মনে হতে পারে।

অনেকেই দুশ্চিন্তা করেন যে, এই ব্যথা হয়তো শরীরের কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি আসলে শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া মাত্র। নতুন কোনো ব্যায়াম রুটিন শুরু করলে কিংবা হঠাৎ করে শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে এই ঘটনাটি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যথার তীব্রতা কম থাকে, আবার কেউ কেউ বেশ তীব্র অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। তবে সাধারণত এই সমস্যাটি ক্ষতিকর নয় এবং সময়ের সাথে সাথে এটি আপনাআপনিই সেরে ওঠে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা কেন হয় এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা কেন হয়?

ব্যায়ামের সময় যখন পেশিগুলোর ওপর তাদের স্বাভাবিক সহনক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ বা ধকল পড়ে, তখন পেশির অভ্যন্তরে অণুবীক্ষণিক কিছু পরিবর্তন ঘটে; পেশির ভেতরের এই অতি-ক্ষুদ্র পরিবর্তনগুলোই মূলত ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যখন আপনি কোনো নতুন ব্যায়াম রুটিন শুরু করেন কিংবা হঠাৎ করে ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়িয়ে দেন, তখন এমনটি বেশি ঘটে; কারণ পেশিগুলো তখনো নতুন এই ধকল বা চাহিদার সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেনি, যার ফলে পেশির ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ সৃষ্টি হয়।

এই ব্যথা অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূত হয় না, বরং কয়েক ঘণ্টা পর—কিংবা এমনকি পরের দিন—শুরু হয়; চিকিৎসা পরিভাষায় এই ঘটনাটি ‘ডিলেইড অনসেট মাসল সোরনেস’ (Delayed Onset Muscle Soreness) বা সংক্ষেপে ‘DOMS’ নামে পরিচিত। এটি মূলত একটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে পেশিগুলো নিজেদের মেরামত ও শক্তিশালী করার কাজে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত থাকে। শরীর যখন ধীরে ধীরে নতুন ব্যায়াম রুটিনের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে, তখন পেশির ব্যথাও কমতে থাকে এবং একই সাথে শারীরিক সহনক্ষমতা বা স্ট্যামিনাও বৃদ্ধি পায়। ভুলভাবে ব্যায়াম করলে কি পেশিতে ব্যথা হতে পারে?

যদি সঠিক ভঙ্গি ও কৌশলে ব্যায়াম করা না হয়, তবে পেশির ওপর অহেতুক চাপ পড়তে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে ব্যথাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। অনেকেই সঠিক নির্দেশনা ছাড়াই ব্যায়াম শুরু করেন, যার ফলে তারা ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়ামগুলো সম্পাদন করেন। এর পরিণামস্বরূপ, শরীরের ভুল অংশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা পেশিতে টান পড়া, অস্বস্তি বা আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

নিজের সক্ষমতার চেয়ে বেশি ওজনের ভার তোলা কিংবা অত্যধিক তীব্রতায় ব্যায়াম করাও এই সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে ভুল পদ্ধতিতে ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া শরীরের সেরে ওঠার বা ‘রিকভারি’ প্রক্রিয়ার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই, সঠিক কৌশলকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ধীরে ধীরে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন : আপনার কি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি? খালি পেটে এই জিনিসগুলো খান।

পেশির ব্যথা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

পেশির ব্যথা প্রতিরোধ করার জন্য, ব্যায়াম শুরুর আগে ‘ওয়ার্ম-আপ’ (শরীর গরম করা) এবং ব্যায়াম শেষে ‘কুল-ডাউন’ (শরীর ঠান্ডা করা) করা অপরিহার্য। ব্যায়ামের তীব্রতা বা মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত, যাতে পেশিগুলো পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় এবং হঠাৎ বা আকস্মিক চাপের মুখে না পড়ে। পেশিগুলো যাতে কার্যকরভাবে সেরে উঠতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস—বিশেষ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার—এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা পেশি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। নিয়মিত ‘স্ট্রেচিং’ বা শরীর টানটান করার ব্যায়াম এবং হালকা শারীরিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকাও ব্যথা উপশমে সাহায্য করতে পারে। একটি সঠিক রুটিন বা নিয়মাবলি ধারাবাহিকভাবে মেনে চললে পেশিগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং পেশি-সংক্রান্ত ব্যথার সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে কমে আসে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article