সুস্বাস্থ্যের জন্য সকল অঙ্গের সঠিক কার্যকারিতা অপরিহার্য। কিডনি শরীরে ফিল্টার হিসেবে কাজ করে, প্রস্রাবের মাধ্যমে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। কিডনি ভিটামিন ডি কে সক্রিয় আকারে রূপান্তরিত করে, যা দাঁত এবং হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। তবে, আজকাল কিডনি সম্পর্কিত সমস্যা বাড়ছে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, সর্বদা স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি, কিছু অনিচ্ছাকৃত খারাপ অভ্যাসও কিডনির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই, সময়মতো এই অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। আসুন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শুনি।
বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?
দিল্লির শ্রী বালাজি অ্যাকশন মেডিকেল ইনস্টিটিউটের নেফ্রোলজি এবং কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরিচালক ডাঃ রাজেশ আগরওয়াল বলেন, কিডনি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ এবং অতিরিক্ত জল অপসারণে সহায়তা করে। তবে, প্রতিদিনের ভুলগুলি অসাবধানতাবশত কিডনির ক্ষতি করতে পারে। আমরা যেভাবে সকাল শুরু করি তা সরাসরি কিডনির স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।
অনেকেই ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে জল না খেয়ে খালি পেটে চা বা কফি পান করেন, এটি একটি খুব সাধারণ কিন্তু ক্ষতিকারক অভ্যাস। খালি পেটে ক্যাফেইন গ্রহণ কিডনির উপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ডিহাইড্রেশন বাড়াতে পারে। এছাড়াও, অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাব আটকে রাখার চেষ্টা করেন, বিশেষ করে সকালের হাঁটার সময় বা অন্যান্য কারণে। এটি কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, সংক্রমণ বা পাথর গঠনের ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেক মানুষ ওজন কমানোর জন্য বা অন্যান্য কারণে সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান বা খুব দেরিতে খান। তবে, যদি এটি অভ্যাসে পরিণত হয়, তাহলে দীর্ঘক্ষণ উপবাস শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমা হতে পারে, যা কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য রক্তে শর্করার এবং রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য। একটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং হালকা ব্যায়াম খুবই উপকারী।
আরও পড়ুন : ত্রুটিপূর্ণ অগ্ন্যাশয়ের কারণে শারীরিক পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দিন
এই বিষয়গুলো মনে রাখবেন:
যদি কোন ব্যক্তি সকালে ধূমপান করেন অথবা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন এবং যদি এটি বজায় না রাখা হয়, তাহলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতএব, স্বাস্থ্যকর ভাবে দিন শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু জল পান করুন, হালকা স্ট্রেচিং করুন এবং লবণ এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। আপনার শরীরের চাহিদাগুলি বুঝুন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলি করা আপনার কিডনি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করুন: প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান। একটি স্বাস্থ্যকর খাবার খান। আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে পরামর্শ করুন এবং প্রতি ছয় মাস বা বছরে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করুন। যদি আপনার কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, যেমন হরমোনজনিত ব্যাধি, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস, তাহলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর নির্দেশিত সময়মতো ওষুধ গ্রহণ করে সেগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এছাড়াও, উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন করুন।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি কেবল তথ্যবহুল এবং চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।