ডাবের জল নাকি লেবুর জল… গ্রীষ্মে পান করার জন্য কোনটি বেশি উপকারী?

গ্রীষ্মকালে এমন সব খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়, যা পেট ঠান্ডা রাখে এবং শরীরের আর্দ্রতার মাত্রা (hydration) বজায় রাখতে সাহায্য করে। তীব্র গরমে ডাবের জল এবং লেবুর জল—উভয়ই পান করার জন্য চমৎকার পছন্দ। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই দুটির মধ্যে কোনটি থেকে আপনি বেশি সুফল পাবেন? চলুন, আমরাই আপনাদের জানিয়ে দিই...

5 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

গ্রীষ্মকালে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে কেবল সাধারণ জলই নয়, বরং ডাবের জলের মতো অন্যান্য বিভিন্ন পানীয়ও পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া, এই গরমের মৌসুমে লেবুর জল পান করেও শরীরের আর্দ্রতার মাত্রা কার্যকর ভাবে বজায় রাখা সম্ভব। তবে যেহেতু ডাবের জলে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, তাই এটিকে গ্রীষ্মকালের অন্যতম সেরা পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এখন প্রশ্ন হলো—গ্রীষ্মের মাসগুলোতে পান করার জন্য এই দুটির মধ্যে কোনটি শেষ পর্যন্ত বেশি উপকারী? ভারতে অধিকাংশ মানুষই ডাবের জলের চেয়ে লেবুর জলকেই বেশি পছন্দ করেন; এর প্রধান কারণ হলো লেবুর জল অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তা সত্ত্বেও, শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ডাবের জল একটি অত্যন্ত চমৎকার বিকল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়।

সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মতামত তুলে ধরেছেন। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব—গ্রীষ্মকালের জন্য ডাবের জল নাকি লেবুর জল—কোনটি পান করা অধিকতর শ্রেয়। পাশাপাশি আমরা এই পানীয় দুটির পুষ্টিগুণ, এগুলো পান করার সর্বোত্তম উপায় এবং এদের স্বতন্ত্র উপকারিতাগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করব।

ডাবের জলের পুষ্টিগুণ

গ্রীষ্মকালের প্রেক্ষাপটে ডাবের জলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকা। এই বিশেষ গুণটির কারণেই তীব্র গরমের দিনগুলোতে এটি আমাদের শরীরকে সারাদিন ধরে সতেজ ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, ডাবের জলে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো বেশ কিছু অপরিহার্য খনিজ উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলো শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে শুরু করে পেশি গঠনে সহায়তা করা পর্যন্ত—নানা ধরনের উপকারিতা প্রদান করে থাকে। যদিও ডাবের জলে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা চিনি বা শর্করা থাকে, তবুও এটি একটি স্বল্প-ক্যালোরি যুক্ত পানীয়; আর ঠিক এই কারণেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে এটিকে একটি চমৎকার সহায়ক পানীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। এতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাও থাকে, যা পান করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তির সঞ্চার করে।

লেবুর জলের পুষ্টিগুণ

লেবুর জলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ (Vitamin C) থাকা। এছাড়া, এই ঐতিহ্যবাহী ও সাশ্রয়ী পানীয়টিতে আরও বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকে। সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া জানান যে, ভিটামিন ‘সি’ কেবল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই শক্তিশালী করে তোলে না, বরং গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে আমাদের ত্বককে রোদে পোড়া বা ‘সানবার্ন’ (sunburn) থেকে রক্ষা করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। লেবুর মধ্যে ক্ষারীয় গুণাবলী বিদ্যমান, যা শরীরের pH-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এটি একটি স্বল্প-ক্যালোরি যুক্ত পানীয়ও বটে।

লেবুজল বনাম ডাবের জল: গ্রীষ্মকালে কোনটি বেশি উপকারী?

সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান গীতিকা চোপড়া উল্লেখ করেন যে, এই দুটি পানীয়েরই নিজস্ব ও স্বতন্ত্র উপকারিতা রয়েছে। ডাবের জলেতে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে; তাই জলশূন্যতা, ক্লান্তি বা হিটস্ট্রোকের (লু-এর) ক্ষেত্রে এটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করে। অন্যদিকে, লেবুজল শরীরকে ভিটামিন ‘সি’ এবং সতেজকারী আর্দ্রতা প্রদান করে।

তাছাড়া, এটি হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে। এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান যে, প্রচণ্ড গরম বা অতিরিক্ত ঘামের সময় ডাবের জল শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতি পূরণে অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখে; পক্ষান্তরে, শরীরের দৈনিক আর্দ্রতার মাত্রা বজায় রাখার ক্ষেত্রে লেবুজল বেশ উপযোগী। ডা. গীতিকা পরামর্শ দেন যে, আদর্শ উপায় হলো—এই দুটি পানীয় পালাক্রমে বা অদলবদল করে পান করা।

আরও পড়ুন : ঠান্ডা জল পান করা কি সত্যিই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে? জানুন

এই পানীয়গুলো সেবনের সর্বোত্তম সময় প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ গীতিকা পরামর্শ দেন যে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই খালি পেটে অথবা সকালের মাঝামাঝি সময়ে এগুলো পান করা উচিত। তাঁর মতে, এই পানীয়গুলোর যেকোনো একটি দিয়ে দিনের সূচনা করলে সারা দিন ধরে শরীরের শক্তির মাত্রা অটুট রাখা সম্ভব হয়। পাশাপাশি, গ্রীষ্মকালে এটি শরীরকে হিটস্ট্রোক বা ‘লু’-এর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতেও সহায়তা করে।

এই বিশেষজ্ঞ আরও উল্লেখ করেন যে, শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান দূরকারী (detoxifying) এই পানীয়গুলো বিকেলের দিকেও পান করা যেতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গ্রীষ্মকালে বিকেলের দিকেও যেহেতু প্রচণ্ড গরম থাকে, তাই শরীরের শীতলতা এবং ইলেক্ট্রোলাইট পুনঃপূরণ বা ঘাটতি মেটানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এই সময়ে কেউ চাইলে ডাবের জল, আমলকির রস বা জল, পুদিনা-লেবুর শরবত কিংবা সাবজা (মিষ্টি তুলসী বীজ)-এর শরবত বেছে নিতে পারেন। এই অভ্যাসটি শরীরের আর্দ্রতা এবং খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article