আজকের দ্রুতগতির জীবনে, কাজের চাপ, মোবাইল আসক্তি এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রার কারণে অনেকের পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। দেরি করে ঘুমান এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সাধারণ হয়ে উঠেছে। যখন শরীর প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না, তখন এর লক্ষণগুলি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ঘুম থেকে ওঠার পরে ক্লান্তি বোধ করা, সারা দিন অলস বোধ করা, বিরক্তি এবং মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া। অনেকের মাথা ভারী হওয়া, চোখে জ্বালাপোড়া এবং মনোযোগের অভাবের মতো সমস্যাও অনুভব করেন।
ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন এবং ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যাওয়াও অপর্যাপ্ত ঘুমের লক্ষণ হতে পারে। যদি এই লক্ষণগুলিকে দীর্ঘ সময় ধরে উপেক্ষা করা হয়, তবে এগুলি শরীরের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, আসুন জেনে নেওয়া যাক কোন রোগগুলি ঘুমের অভাবের ঝুঁকি বাড়ায় এবং সেগুলি প্রতিরোধ করার জন্য কি করা উচিত।
কোন রোগগুলি ঘুমের অভাবের ঝুঁকি বাড়ায়?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এটি হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ঘুমের অভাব রক্তচাপের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। তদুপরি, এটি চিনির মাত্রার উপরও প্রভাব ফেলে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
ঘুমের অভাব ওজন বৃদ্ধির দিকেও পরিচালিত করে কারণ বিপাক প্রভাবিত হয়। এটি সরাসরি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এবং উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার মতো সমস্যা বাড়াতে পারে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ঘন ঘন অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। অতএব, প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা ঘুম অপরিহার্য।
আরও পড়ুন : ওষুধ খাওয়ার পরেও রক্তচাপ বেশি থাকে, এটি কি কারণ হতে পারে, জানুন
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন?
ঘুমের অভাব এড়াতে, প্রথমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যাওয়ার এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপের ব্যবহার কমিয়ে দিন। রাতে ক্যাফেইন এবং ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
আপনার ঘর শান্ত এবং আরামদায়ক রাখুন। দিনের বেলা হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাও ঘুমের উন্নতি করতে পারে। মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস করুন।
এটিও গুরুত্বপূর্ণ:
যদি ঘুমের সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তাহলে এগুলিকে হালকাভাবে নেবেন না। ঘন ঘন ঘুম থেকে ওঠা বা ঘুমাতে না পারা কোনও অন্তর্নিহিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, স্ব-ঔষধ খাওয়ার পরিবর্তে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম কেবল শরীরকে শিথিল করে না বরং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে।