ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সরবরাহের পাশাপাশি, আপনি যদি আপনার খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি এবং অ্যামিনো অ্যাসিড যোগ করতে চান, তবে বীজ গ্রহণ করা একটি চমৎকার বিকল্প। তবে, খাদ্যতালিকায় যেকোনো খাবার অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা একান্ত আবশ্যক। বর্তমান ডিজিটাল যুগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন অসংখ্য ভিডিও দেখা যায় যেখানে মানুষ ডায়েট এবং পুষ্টি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করে থাকেন। এই ভিডিওগুলোতে প্রায়শই বিভিন্ন ধরণের বীজ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়—আর ঠিক এই কারণেই মানুষ এখন বাদামের পাশাপাশি বীজকেও তাদের খাদ্যতালিকায় একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছেন। যদিও এই অভ্যাসটি সাধারণত উপকারী, তবুও গরম আবহাওয়ায় কোন বীজগুলো খাওয়া উচিত নয়, সে সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
চিয়া ও সাবজা থেকে শুরু করে কুমড়ো ও সূর্যমুখী বীজ—আপনি যদি এদের কোনোটিকে আপনার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন, তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে বর্তমান ঋতু বা আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে আপনার শরীরের জন্য কোনটি উপযুক্ত। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব যে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে ঠিক কোন বীজগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
তিসি বীজ (Flax Seeds)
পুষ্টিগুণের বিচারে তিসি বীজ গ্রহণ করা অত্যন্ত উপকারী। তবে, গ্রীষ্মকালে তিসি বীজ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়; কারণ মনে করা হয় যে, শরীরের ওপর এদের একটি উল্লেখযোগ্য ‘উত্তাপ সৃষ্টিকারী’ বা ‘গরম’ প্রভাব রয়েছে। ঠিক এই কারণেই শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখতে মানুষ প্রায়শই তিসি বীজের লাড্ডু তৈরি করে খেয়ে থাকেন। গ্রীষ্মকালে আপনি যদি তিসি বীজ গ্রহণ করেন, তবে তা আপনার হজমপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং এর ফলে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, এটি ত্বকে র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠার কারণ হতে পারে।
সূর্যমুখী বীজ (Sunflower Seeds)
সূর্যমুখী বীজও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ; তবে এদেরও একটি ‘উত্তাপ সৃষ্টিকারী’ বা ‘গরম’ প্রকৃতি রয়েছে। গ্রীষ্মকালে আপনি যদি প্রতিদিন নিয়মিতভাবে এই বীজ গ্রহণ করেন, তবে তা শরীরের অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপ জমা হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর ফলে যে কেবল হজমজনিত সমস্যাই দেখা দিতে পারে তা নয়, বরং এটি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা—যেমন ব্রণ বা ফুসকুড়ির প্রকোপও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আপনি যদি গ্রীষ্মকালে এই বীজগুলো খেতে চান, তবে তা কেবল সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন; অথবা বিকল্প হিসেবে, খাওয়ার আগে সেগুলোকে জলে ভিজিয়ে নিন।
তিলের বীজ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
তিলের বীজ (Sesamum indicum) শীতকালে শরীর উষ্ণ রাখার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এদের প্রকৃতিগত ভাবেই শরীর উষ্ণ করার ক্ষমতা রয়েছে। তবে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে আপনার তিলের বীজ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এগুলো খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, এবং এর ফলে অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা এবং পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি একান্তই এগুলো খাওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে খুব সামান্য পরিমাণে দই বা ঘোল-এর সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন : আপনি অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহন করছেন না তো ? এই ৫টি লক্ষণ দেখে বুঝুন
গ্রীষ্মকালে এই বীজগুলোও এড়িয়ে চলুন
গ্রীষ্ম ঋতুতে যেসব বীজের প্রকৃতি উষ্ণ, সেগুলোর কথা বিবেচনা করলে মেথি বীজ (fenugreek) খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত, অথবা খুব সামান্য পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া, সরিষার বীজেরও শরীর উষ্ণ করার ক্ষমতা রয়েছে।
এই বীজগুলো খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী
গ্রীষ্মকালে আপনি আপনার খাদ্যতালিকায় সবজা বীজ (সুইট বেসিল বীজ) অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, কারণ এদের প্রকৃতি শীতল। একইভাবে, গ্রীষ্ম ঋতুতে চিয়া বীজ খাওয়াও বেশ উপকারী। আপনি যদি আপনার খাদ্যতালিকায় এই বীজগুলো যোগ করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে নিশ্চিত করুন যে খাওয়ার আগে আপনি সেগুলোকে কিছুক্ষণ জলে ভিজিয়ে রেখেছেন। তাছাড়া, মৌরি বীজ (fennel seeds) গ্রীষ্মকালে শরীর শীতল রাখতে সহায়তা করে। কুমড়োর বীজেরও শরীর শীতল করার ক্ষমতা রয়েছে।