Table of Contents
শীতকালে ঠাণ্ডা আবহাওয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে মানুষের জল পানের অভ্যাসে পরিবর্তন আসে। ঠাণ্ডার কারণে অনেকে ঠাণ্ডা জল খাওয়া এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ কেউ কিছু না ভেবেই ঠাণ্ডা জল পান করতে থাকেন। এই ধরনের আবহাওয়ায় শরীরের প্রয়োজন ভিন্ন হয় এবং আপনি কীভাবে জল পান করছেন, তা আপনার স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। শীতকালে ঠাণ্ডা জল পান করা প্রায়শই শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয় না। এই পরিস্থিতিতে, হালকা গরম জল একটি সহজ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে সামনে আসে।
হালকা গরম জল শরীরকে অভ্যন্তরীণ ভাবে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে এবং শীতকালে হওয়া দৈনন্দিন সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটি শরীরের জন্য অনেকভাবে উপকারী হতে পারে। হজম থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত সবকিছুর উপর এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এই কারণেই শীতকালে হালকা গরম জল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, হালকা গরম জল পান করলে শরীর কি কি উপকার পায় এবং সারাদিনে ঠিক কতটা পরিমাণে জল পান করা উচিত।
শীতকালে হালকা গরম জল পান করার উপকারিতা কি কি?
দিল্লি এমসিডি-র ডঃ অজয় কুমার ব্যাখ্যা করেন যে, হালকা গরম জল পান করলে শরীর ভেতর থেকে হালকা উষ্ণতা পায়, যা ঠাণ্ডার অনুভূতি কমায়। এটি হজমতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে এবং গ্যাস, বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। হালকা গরম জল শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যার ফলে কিডনি এবং লিভার আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
এটি শীতকালে জয়েন্টের শক্তভাব এবং পেশী টানটান হওয়ার সমস্যাও কমাতে পারে। এছাড়াও, এটি গলাকে আরাম দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, যা মৌসুমী অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে পারে।
সারাদিনে কতটা জল পান করা উচিত?
শীতকালে তৃষ্ণা কম পেলেও শরীরের পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন হয়। সাধারণত, একজন সুস্থ ব্যক্তির দিনে প্রায় ২ থেকে ৩ লিটার জল পান করা উচিত। প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ বয়স, ওজন এবং দৈনন্দিন কার্যকলাপের স্তরের উপরও নির্ভর করে। একবারে বেশি পরিমাণে জল পান না করে সারাদিন অল্প অল্প করে জল পান করা ভালো বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন : চোখে দেখা দেওয়া এই ৩টি লক্ষণ লিভার ফেইলিওরের ইঙ্গিত দেয়, এখনি সাবধান হন
সকালে খালি পেটে এক বা দুই গ্লাস হালকা গরম জল পান করা উপকারী হতে পারে। যদি আপনার প্রস্রাবের রঙ হালকা হয়, তবে এটি একটি ইঙ্গিত যে আপনার শরীর সঠিকভাবে হাইড্রেটেড আছে। সুস্বাস্থ্যের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ:
- সারাদিন ধরে জল পান করার অভ্যাস বজায় রাখুন।
- তৃষ্ণা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
- আপনার খাদ্যাভ্যাসে স্যুপ এবং অন্যান্য তরল খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন।
- অতিরিক্ত চা ও কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন।
- হালকা ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।