আজকাল অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে, নারীরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সেই ত্বকের নানা সমস্যায়—যেমন বলিরেখা ও সূক্ষ্ম রেখা—আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, ত্বকের স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে নারীরা প্রায়শই বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য বিউটি পার্লারে যান কিংবা ত্বকের যত্নের (skincare) বিভিন্ন পণ্যের ওপর নির্ভর করেন। তবে, রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতির কারণে এই পণ্যগুলো অনেক সময় উল্টো ত্বকের ক্ষতিই করে বসে। তাই, প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন নেওয়া এবং একটি স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দীপ্তি অর্জন করা অনেক বেশি শ্রেয়। এই নিবন্ধে আমরা পাঁচটি জাপানি ফেস ম্যাসাজ কৌশল নিয়ে আলোচনা করব, যা ত্বক ঝুলে যাওয়া এবং বলিরেখা পড়া রোধ করতে সহায়তা করে।
যাই হোক, আজকাল জাপানি স্কিনকেয়ার বা ত্বকের যত্ন পদ্ধতি—তা চাল ধোয়া জলের সিরামই হোক, খাদ্যাভ্যাস হোক কিংবা ফেস ম্যাসাজ—অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ত্বককে চিরতরুণ রাখতে আপনিও এই পাঁচটি জাপানি ফেস ম্যাসাজ কৌশল অনুশীলন করে দেখতে পারেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কীভাবে এই ম্যাসাজগুলো করতে হয় এবং এগুলো কি কি উপকার প্রদান করে।
গাল বা চিক লিফট স্কাল্পটিং (Cheek Lift Sculpting)
আগামী বহু বছর পর্যন্ত আপনার ত্বককে তরুণ ও সতেজ দেখাতে আপনি “চিক লিফট স্কাল্পটিং” ম্যাসাজটি অনুশীলন করতে পারেন। এই কৌশলটি প্রয়োগ করলে মুখের গালগুলো ওপরের দিকে উঠে আসে এবং ত্বক টানটান হয়। এটি করার জন্য, আপনার আঙুল ব্যবহার করে মুখের কোণ থেকে বাইরের দিকে কানের দিকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। এই প্রক্রিয়াটি ত্বকের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যার ফলে আপনার মুখমণ্ডল এক উজ্জ্বল দীপ্তিতে ভরে ওঠে।
কপাল মসৃণকরণ বা ফোরহেড স্মুদিং (Forehead Smoothing)
উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার দ্বিতীয় ম্যাসাজ কৌশলটি হলো “ফোরহেড স্মুদিং” বা কপাল মসৃণকরণ। এই কৌশলটি মুখের পেশিগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে, যার ফলে ত্বকের সূক্ষ্ম রেখাগুলো কমে আসে এবং মুখমণ্ডল আরও তরুণ দেখায়। এই ম্যাসাজটি করার জন্য, আপনার আঙুল দিয়ে কপালের মাঝখান থেকে শুরু করে বাইরের দিকে কানের পাশের রগের (temples) দিকে ম্যাসাজ করতে থাকুন। এই প্রক্রিয়ার সময়, আঙুলগুলো আলতোভাবে বৃত্তাকার গতিতে ঘোরাতে হবে।
আরও পড়ুন : শরীরের মেদ কমাতে চান? এই ১০টি প্রোটিন এড়িয়ে চলুন
জ লাইন বা চোয়ালের রেখা সুগঠিতকরণ ম্যাসাজ (Jawline Defining Massage)
চোয়ালের রেখা সুগঠিতকরণ বা “জ লাইন ডিফাইনিং” ম্যাসাজটি মুখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি করার জন্য, চিবুক বা থুতনি থেকে শুরু করে আঙুলগুলো ওপরের দিকে কানের দিকে নিয়ে যান। এই অনুশীলনটি নিয়মিত করলে চিবুকের নিচে জমে থাকা মেদ বা ‘ডাবল চিন’ কমে আসে এবং চোয়ালের রেখাগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
ঘাড়ের আকৃতি বিন্যাসকারী ম্যাসাজ
এই ফেসিয়াল ম্যাসাজটি ঘাড় ও চোয়ালের চারপাশের ত্বককে আরও মসৃণ ও সুদৃঢ় দেখাতে সহায়তা করে। এটি করার জন্য, আপনার হাতের তালু দুটি ধীরে ধীরে কলার-বোন বা কণ্ঠাস্থি থেকে উপরের দিকে চোয়ালের রেখা বরাবর সঞ্চালন করুন। এই কৌশলটি রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।