একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে শরীরে উপস্থিত কিছু বিশেষ প্রোটিন প্রোস্টেট ক্যান্সারের(Prostate Cancer) ওষুধের শত্রু হয়ে ওঠে। এই প্রোটিনগুলি কেবল চিকিৎসাকে দুর্বল করে না বরং রোগীর অবস্থা আরও খারাপ করতে পারে।
পুরুষদের মধ্যে সাধারণ প্রোস্টেট ক্যান্সার
প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষ প্রজনন ব্যবস্থার সাথে সম্পর্কিত একটি রোগ। যা প্রোস্টেট গ্রন্থিতে শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং লক্ষণগুলি খুব সামান্য। কিন্তু যখন এটি বাড়তে শুরু করে। তখন প্রস্রাব করতে অসুবিধা, রক্তপাত, পিঠ বা হাড়ের ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় দেখেছেন যে AR-V7 এবং অন্যান্য ধরণের প্রোটিন প্রোস্টেট ক্যান্সারের ওষুধের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই প্রোটিন ক্যান্সার কোষকে ওষুধের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেয়। যার কারণে ওষুধটি কার্যকর হয় না। এই কারণেই অনেক রোগীর উপর চিকিৎসার প্রভাব বেশি দিন স্থায়ী হয় না এবং তাদের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে।
হরমোন ব্লকিং ওষুধ
প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় সাধারণত হরমোন ব্লকিং ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু যখন এই প্রোটিন সক্রিয় হয়। তখন ক্যান্সার কোষগুলি ওষুধ থেকে পালানোর উপায় খুঁজে পায়। এর ফলে, ক্যান্সার কোষগুলি আবার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। এই গবেষণার সবচেয়ে বড় ফলাফল হল, ডাক্তাররা এখন ওষুধ শুরু করার আগে রোগীর শরীরে এই প্রোটিন কতটা সক্রিয় তা পরীক্ষা করতে পারেন। যদি প্রোটিনটি আরও সক্রিয় পাওয়া যায়। তাহলে ডাক্তার তাৎক্ষণিক ভাবে অন্য একটি চিকিৎসা বা উন্নত চিকিৎসা বেছে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন : শিশুদের হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি দূর করতে এই সেরা রেসিপিটি ব্যবহার করে দেখুন, স্বাস্থ্যও সুস্থ থাকবে।
প্রোটিন পরীক্ষা করা আরও বেশি প্রয়োজনীয়।
বিজ্ঞানীরা এখন লক্ষ্যবস্তু ওষুধ নিয়ে কাজ করছেন। যা এই প্রোটিনকে ব্লক করতে পারে। যদি এই ওষুধগুলি সফল হয়। তাহলে প্রোস্টেট ক্যান্সারের রোগীরা দীর্ঘ সময়ের জন্য উপকৃত হবে এবং তাদের জীবন আরও ভালো হবে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে চিকিৎসা প্রতিটি রোগীর জন্য একই রকম নাও হতে পারে। ডাক্তাররা যদি আগে থেকে এই প্রোটিনগুলি সনাক্ত করেন, তাহলে চিকিৎসা আরও কার্যকর এবং নিরাপদ হতে পারে।
Disclaimer: এই নিবন্ধে উল্লিখিত পদ্ধতি এবং পরামর্শগুলি সাধারণ স্বাস্থ্য জ্ঞানের ভিত্তিতে লেখা, কোন পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। এটি অনুসরণ করার আগে একজন ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।