ওয়েব ডেস্ক: এবারে বিধানসভায় বাম ও কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি নেই। কিন্তু তা সত্বেও বামহীন বিধানসভায় সাড়ম্বরে পালিত হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মবার্ষিকী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে শ্রদ্ধা জানালেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও ফিরহাদ হাকিম। সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী -সহ আরও অনেকে।
সেই ১৯৭৭ সালে এ রাজ্যে বাম শাসন শুরু হয়েছিল তাঁর হাত ধরে। ৩৪ বছর ধরে অটুট ছিল বাম দুর্গ। ২০১১ সালে ভেঙে পড়ার পর ১০ বছর পর বিধানসভা বাম শূন্য। জ্যোতি বসুর ১০৭ তম জন্মদিনে তাঁর ছবিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়করা। নেই কোনও সিপিএম বা বাম প্রতিনিধি।
একটা সময়ে জ্যোতি বসুর মন্ত্রীসভায় ছিলেন পরেশ অধিকারী। এবারেও তিনি বিধানসভার সদস্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এদিন তিনিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তৈলচিত্রে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন। এবারের বিধানসভায় অপর এক সদস্য বঙ্কিম ঘোষ ছিলেন জ্যোতি বসুর মন্ত্রীসভার সদস্য। কিন্তু কালের বিবর্তনে তিনি এখন বিজেপি রয়েছেন। বিজেপির টিকিটেই তিনি এবারে বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদিন তিনিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তৈলচিত্রে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আরেক জন নাম না করলেই নয়। তিনি হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বিভিন্ন সময়ে ফেসবুক লাইভে নিজেকে জ্যোতি বসুর ফ্যান বলে দাবি করেছিলেন মদন। তিনিও এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিধানসভা। এবারে বামেদের একজন প্রতিনিধি না থাকলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে কোনও ঘাটতি ছিল না।
২০২১ এর ভোটে বিজপি-তৃনমূল কে একসাথে ‘বিজেমূল’ বলে প্রচার ভুল ছিল, শিকার করলেন Surjya Kanta Mishra
বিধানসভায় বিধায়করাই শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। বিধায়কদের আমন্ত্রণে যেতে পারেন দলীয় নেতারা। যেভাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ডাকে সাড়া দিয়ে বিধানসভায় গিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে মাল্যদান করেন দিলীপ ঘোষ। এ দিন কোনও বাম প্রতিনিধি ছিলেন না। এনিয়ে পরে পরিষদীয় মন্ত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বামেরা মমতার বিরোধিতা করতে গিয়েই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।’
‘দুয়ারে সরকারে’র মত এবার চালু হবে ‘দুয়ারে KMC’
সল্টলেকের নামকরণ করা হয়েছিল বিধাননগর। তেমনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামে নিউটাউনকে ‘জ্যোতি বসু নগর’ করতে চেয়েছিল বামেরা। কিন্তু তার পর নামকরণ আর এগোয়নি। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন,’আমরা জ্যোতি বসুর নগর হিসেবেই ওই এলাকাটিকে চিহ্নিত করেছি।’
