ওয়েব ডেস্ক: বেসরকারি বাসের ভাড়া এখন বাড়ানো সম্ভব নয় তা শনিবার তা ফের একবার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ মন্ত্রী এই কথা বললেও রাজ্যের একাধিক জায়গায় বেশি ভাড়া নিচ্ছে এই বেসরকারি বাস বলে অভিযোগ।
ডিজেলের আগুনে দামের ধাক্কায় কার্যত সঙ্কটে পরিবহণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও বেসরকারি বাস নামানোর আর্জি জানিয়েছেন পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ। যদিও মালিকদের দাবি, বাস নামালে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়বে। ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে অনড় বাস মালিকরা। পেট্রোলের দাম বাড়তে বাড়তে লিটারে ১০১ টাকা ছাড়িয়েছে। সেঞ্চুরি থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই ডিজেলও। রান্নার গ্যাসের দামও চড়চড়িয়ে বেড়েছে। কেরোসিনও অগ্নিমূল্য। দুধের দাম বাড়ছে।মুরগির মাংস থেকে…মাছ….ছুঁলেই আগুন।
মালিকদের সাফ কথা, ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে, তাই আগের ভাড়ায় বাস নামানো সম্ভব নয়! তাঁদের বক্তব্য,গত বছর লক ডাউন শুরুর সময়ে লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ছিল ৬৪ টাকা।এক বছরের মধ্যে ভাড়া না বাড়লেও, ডিজেলের দাম লিটারে বেড়েছে প্রায় ২৯ টাকা।
সংযুক্ত মোর্চা ভাঙবে না বামেরা, পরিষ্কার জানালেন সূর্যকান্ত মিশ্র
অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি পরিসংখ্যান দিয়ে ক্ষতির বহর তুলে ধরে রাজ্যকে চিঠিও দিয়েছে। ওই সংগঠনের দাবি, রাস্তায় বাস নামালে প্রতিদিন লোকসান অন্তত ৩ হাজার টাকা। বাসে ৫০০ যাত্রী উঠলে, টিকিট বিক্রি বাবদ আয় ৩ হাজার ৭২৫ টাকা। ডিজেল কিনতে দৈনিক খরচ ৪২০০ টাকা। কর্মীদের বেতনে চলে যায় দেড় হাজার টাকা। আনুষঙ্গিক খরচ ১ হাজার টাকা। সংগঠনের দাবি, মিনিবাস চালাতে হলে, প্রতিদিন পকেট থেকে দিতে হবে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। শহরের থেকে জেলায় লোকসান আরও বেশি বলে দাবি বাস মালিক সংগঠনের।
এদিকে জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ভাড়া না বাড়ালে বাস চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সংগঠনের অনেকেরই বক্তব্য, কয়েক মাসের রোড ট্যাক্স মকুব যথেষ্ট নয়। বরং প্রয়োজন ভাড়া বাড়ানোর। পরিবহণ মন্ত্রীর চাপে সুর নরম করলেও তাঁরা চান ভাড়া বাড়ানো হোক। অথচ এখন যা পরিস্থিতি তাতে এমনিতেই সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। পেট্রোল–ডিজেলের দাম বাড়ায় সবজি–মাছ–মাংসের দাম বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়েছে। সেখানে বাস ভাড়া বাড়ালে চাপ বাড়বে সাধারণ মানুষের উপর।
দেশকে তিনটি জোনে ভাগ করে কাজ করতে চাইছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক
এই পরিস্থিতিতে বাস মালিক সংগঠনগুলির কাছে, আরও একবার ভাড়া না বাড়িয়ে, বেশি সংখ্যায় বাস নামানোর আর্জি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ মন্ত্রী বলেছেন, আমি বাস সংগঠনের কাছে অনুরোধ করেছি, বাসের ভাড়া বাড়াবেন না। যাঁদের কাছে ভাড়া নিতে চাইছেন ,তাঁদের অবস্থা খারাপ, আমরাও নিরুপায়।
জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মালিকরা বলছেন রোজ ২-৩ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। আমরা কাউকে বাস নামাতে বারণ করেনি, মুশকিল এটাই অনেকে পেরে উঠছেন না, সরকারকেও বুঝতে হবে ভাড়াবৃদ্ধিই একমাত্র পথ।
সরকার ও বাস মালিকদের এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে দুর্দশা আরও বাড়ছে সাধারণ মানুষের।
