পরিবহণ দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, পুলিশি হেফাজতে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ওয়েব ডেস্ক: সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত রাখাল বেরা। এ বার জেলায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় বৃহস্পতিবার ধৃতকে কাঁথি আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে চারদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখাল। আর্থিক প্রতারণার ঘটনায় আরেক অভিযুক্ত চঞ্চল নন্দীরও খোঁজ করছে পুলিশ।

পরিবহণ দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, পুলিশি হেফাজতে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ রাখাল বেরা

রাখাল বেরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল গতমাসের শুরুর দিকেই। গত ৯ জুন কাঁথি থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করেন পূর্ব মেদিনীপুরের ইঞ্চির বাসিন্দা মিজানুর আলি নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগকারীর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী যখন রাজ্য পরিবহন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় দফতরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন রাখাল বেরা ও চঞ্চল নন্দী। মোট ৬ লাখ টাকা কাঁথি পুরসভার অফিসে চঞ্চল নন্দীর হাতে দিয়ে আসেন বলে দাবি করেন মিজানুর। ওই অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে বৃহস্পতিবার কাঁথি মহকুমা আদালত থেকে অভিযুক্ত রাখাল বেরাকে ৫ দিন হেফাজতে পায় কাঁথি থানার পুলিশ।

সম্প্রতি, চাকরী প্রার্থী মিজানুর আলী খাঁন কাঁথি থানায় অভিযোগ করে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী তৎকালীন রাজ্য সরকারে  পরিবহন দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী। সেখানে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁর দুই ঘনিষ্ঠ চঞ্চল নন্দী ও রাখাল বেরা। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পরিবহন দফতরে কনডাক্টরের চাকরি করে দেবে বলে ১০ লক্ষ টাকা চায় দুজন। ওই মাসেই  স্ত্রী ও মায়ের গয়না বন্ধক রেখে ও বাবার ব্যবসায় গচ্ছিত ৬ লক্ষ টাকা কাঁথি পৌরসভা অফিসে শুভেন্দু বাবুর ঘনিষ্ঠ চঞ্চল নন্দীর হাতে তুলে দিই৷ দুজনই জানান বাকি টাকা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেলে তারপরেই নেওয়া হবে।”

কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে গ্রেফতার দেবাঞ্জন দেবের দেহরক্ষী

প্রতারিত মিজানুরের আরও অভিযোগ, ‘‘পুজোর সময় চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়ে যাব বলে জানানো হয়৷ কিন্তু গত বছর নভেম্বরে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রীপদ থেকে ইস্তফা দেন। তখনও ওঁরা বলেছিলেন, ভোটের পর শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হলে ভাল চাকরি দেওয়া হবে। পরে, টাকা ফেরৎ চাইতে গেলে রাখাল ও চঞ্চল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়ে সুবিচারের আশায় কাঁথি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হই৷’’

উল্লেখ্য, জেলায় কান পাতলেই শোনা যায়, রাখাল ও চঞ্চল উভয়েই শুভেন্দুর ‘অত্যন্ত কাছের লোক’। আর্থিক প্রতারণা কাণ্ডে তদন্তে নেমে কলকাতা পুলিশ হোয়াটস্যাপে কথোপকথন ও অন্যান্য প্রমাণ হাতে পায়। সেই ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয় রাখাল বেরাকে। একদা শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সচিব হয়েও কাজ করেছিলেন রাখাল । শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের বড় পদকর্তাও হয়েছিলেন তিনি। নারদকাণ্ডে শুভেন্দুর ভূমিকা জানতে সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়েন রাখাল।

এদিকে গত নভেম্বরে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন শুভেন্দু। যারপর মিজানুর চঞ্চল ও রাখালকে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করলে নাকি তাঁরা বলেন, ভোটের পর শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হলে ভালো চাকরি দেওয়া হবে। তবে নির্বাচনে শুভেন্দুর দল হেরে গেলে টাকা ফেরত চায় মিজানুর। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে পরে তা অস্বীকার করেন চঞ্চল। এরপরই কাঁথি থানায় অভিযোগ জানান মিজানুর। এদিকে এই ঘটনায় চঞ্চলকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

ভুয়ো IAS এর পর এবার ভুয়ো CBI অফিসার পরিচয়ে বিয়ে! কলকাতা থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

প্রসঙ্গত, প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি থেকে গ্রুপ ডি সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ১৩৫ কোটি টাকার প্রতারণা করার অভিযোগে অলোক মাইতিকে কিছুদিন আগেই গ্রেফতার করে ময়না থানার পুলিশ। অলোক মাইতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে নির্বাচন আবহেই সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি সরকার এলে অলোক মাইতিকে পুলিশের হাকে তুলে দেওয়া হবে এমন মন্তব্যও করেছিলেন শুভেন্দু। যদিও, পাল্টা তৃণমূলের দাবী ছিল, অলোক মাইতির সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। বরাবরই শুভেন্দুর হয়ে কাজ করেছেন অলোক।

এর আগে সেচ দফতরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছিল রাখাল বেরার বিরুদ্ধে। যদিও সেই সময় শুভেন্দু রাখালের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতা অস্বীকার করে বলেছিলেন, ‘ওঁ (রাখাল বেরা) যে আমার ঘনিষ্ঠ সেই বিষয়ে কোনও প্রমাণ আছে? এই বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই।’ এদিকে তদন্ত উঠে এসেছে যে বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে কমপক্ষে ৬০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছে রাখাল।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article