Table of Contents
এই শীতকালে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি সতর্কতা জারি করেছেন AIMS-এর একজন চিকিৎসক। তিনি শীতকালে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, তা ব্যাখ্যা করেছেন। এই ঋতুতে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায় এবং খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক।
AIMS-এর এন্ডোক্রিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ রাজেশ খড়গাওয়াত ব্যাখ্যা করেছেন যে, শীতকালে সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং ব্যায়ামের অভাবে এমনটা হয়। এই সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার খালি পেটে এবং খাবারের পরের রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা অপরিহার্য। রোগীদের বাড়ির ভেতরে কিছু ব্যায়াম করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম বা হালকা শক্তি প্রশিক্ষণও উপকারী। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বেশি মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
ডঃ রাজেশ বলেন, শীতকালে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি এড়িয়ে চলা উচিত। মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। মিষ্টির পাশাপাশি ফাস্ট ফুড এবং অতিরিক্ত ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন এবং আপনার খাদ্যতালিকায় আরও বেশি প্রোটিন ও ভিটামিন অন্তর্ভুক্ত করুন। এমন কোনো খাবার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন যা হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ঠাণ্ডার কারণে জল খাওয়া কমাবেন না
ডঃ রাজেশ বলেন, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় মানুষ কম জল পান করে, কিন্তু শরীরের তখনও জলের প্রয়োজন হয়। তাই শীতকালেও অন্তত ৭-৮ গ্লাস হালকা গরম জল পান করার চেষ্টা করুন। শুধু তৃষ্ণা পাচ্ছে না বলে জল পান করার প্রয়োজন নেই, এমনটা ভাববেন না। যদি বেশি জল পান করতে না চান, তবে গ্রিন টি-এর মতো পানীয় দিয়েও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন : শীতকালে কালো তিল খাওয়ার প্রচুর উপকারিতা জানুন, এই পদ্ধতিতে ব্যবহার করুন
নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ পরিবর্তন করবেন না
অনেক রোগী শীতকালে তাদের ওষুধের মাত্রা কমিয়ে দেন বা ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। নিজে থেকে আপনার ওষুধ বা ডোজ পরিবর্তন করবেন না। প্রথমে পরীক্ষা করান এবং তারপর ডোজ পরিবর্তন করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
